কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় চকরিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলারের যোগসাজশে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর উপকারভোগী হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে দীর্ঘদিনের পুরাতন, দুর্গন্ধ ও পোকা ধরা নিম্নমানের চাল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সকল চাল চকরিয়া খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে পেকুয়া বাজার থেকে উপজেলা প্রশাসন ২১ বস্তা পচা চাল জব্দ করেছে। জব্দকৃত চাল পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, পেকুয়া উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড়ের ৫৫৯ জন উপকারভোগী হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে ২০ মার্চ ভর্তুকি মূল্যে প্রতিকেজি ১৫ টাকা ধরে চাল বিক্রি শুরু করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক উপকারভোগীর কাছে পচা চাল বিক্রি করেন ডিলার সেকান্দর। এদিকে সচেতন কয়েকজন উপকারভোগী দুপুরে চালগুলো নিয়ে দেখেন দুর্গন্ধময় এবং খাবার অনুপযোগী। উপকারভোগীরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে পেকুয়ার ইউএনও সরেজমিন পরিদর্শন করে ২১ বস্তা পচা চাল জব্দ করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় দেন।
জানা যায়, ৪৫০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল পেকুয়া বাজারস্থ ডিলার সেকান্দরের দোকান থেকে সংগ্রহ করেন পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড়ের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র লোকজন। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে চালের বস্তা খুলে দীর্ঘদিনের পুরাতন, পচা-দুর্গন্ধ ও পোকা ধরা নষ্ট চাল দেখতে পাওয়ায় হতদরিদ্র লোকজন হতাশ হয়ে পড়ে।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, বর্তমানে যে চালগুলো ডিলার সেকান্দর দিচ্ছে তা পচা-দুর্গন্ধ ও পোকা ধরা নষ্ট চাল। খাওয়ার উপযুক্ত নয়। বিয়ষগুলো নিয়ে প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয় না। নষ্ট চাল ফেরত দিতে আসলে ডিলাররা নানা রকম গালিগালাজ করে। আর খাদ্য অফিসের লোকজনদের বললে কিছুই হয় না।
উপকারভোগীরা অভিযোগ করেছেন, চকরিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ডিলারের সাথে যোগসাজশ করে পেকুয়ার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তালিকাভুক্ত হত দরিদ্র লোকজনের মাঝে পচা চাল বিক্রি করেন। বিগত ৫/৬ মাস ধরে চকরিয়া খাদ্য গুদাম থেকে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে ভিজিডি, জেলের সহায়তার চাল ও নিম্নমানের সরবরাহ করা হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চকরিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ডিলার সেকান্দরের পক্ষে তার বড় ভাই রফিক ডিলারের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি জানান, চকরিয়া খাদ্য গুদামের মাধ্যমে কক্সবাজারের জান্নাত অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষ তার কাছে নিম্নমানের চালগুলো সরবরাহ করেছেন। এখানে তার কোনো দোষ নাই।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল করিমে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগে কখনো এ রকম চাল উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। হয়তো চকরিয়া খাদ্য গুদাম থেকে ভুলে নিম্নমানের চালগুলো ডিলার সেকান্দর নিয়ে এসেছে।