খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারবেন না মুক্তির মেয়াদ বাড়ল

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দন্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আগের শর্তেই আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। দেশেই চিকিৎসা নিতে হবে তাকে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদনের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় এ মতামত দিয়েছে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি জানান, এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলায় ১৭ বছর কারাদ- হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে হাইকোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে সাত বছর কারাদ- দেয় বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করলে কারাবাস থেকে মুক্তি পান তিনি। এরপর আরও কয়েক দফায় তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে ভুগছেন বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়ে আসছেন। এজন্য তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবার ও বিএনপি তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দাবি তুললেও সরকার বলে আসছে, শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তিতে থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।

এমন প্রেক্ষাপটেই গত ৬ মার্চ খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। পাশাপাশি তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতিও চাওয়া হয়। এ আবেদনের বিষয়ে মতামত নিতে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় তার সাজা স্থগিত রেখে যে সব শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল সেটা সাতবার বাড়ানো হয়েছে। আজকে (গতকাল) আবারও একই শর্তে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো। এই মতামত দিয়ে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠিয়েছি।’

খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও তাকে বিদেশে নিতে পরিবারের আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ধারা অনুযায়ী আবেদন যেটা ছিল সেটা নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপরে শুধু সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া সেই আবেদনের ওপর আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। যাই করতে হবে আইনের মাধ্যমে করতে হবে এবং আইনে সেরকম (স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে পাঠানোর) সুযোগ নেই।’