উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ১০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারের সমর্থনসূচক সইসহ তালিকা জমা দেওয়ার বিধানও বাদ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এসব সংশোধনী প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে ইসি। আগামী উপজেলা নির্বাচনে এসব বিধান কার্যকর হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ১ লাখ টাকা জামানত দিতে হবে। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত দিতে হবে ৭৫ হাজার টাকা। আগে উভয় পদে জামানত ছিল ১০ হাজার টাকা। জামানত রক্ষায় প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে প্রার্থীদের। এতদিন তা ছিল প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধানও শিথিল করেছে ইসি। এতদিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ২৫০ ভোটারের সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হতো। এটি এখন একেবারেই তুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনসূচক সই লাগবে না।
নির্বাচনী ব্যয়েও পরিবর্তন এসেছে নতুন বিধিমালায়। আগের এলাকাভিত্তিক ভোটার অনুযায়ী ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারতেন প্রার্থীরা। তবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। এখন থেকে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয় অনধিক ২৫ লাখ টাকা এবং ‘মহিলা সদস্য’ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনধিক ১ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
বর্তমানে সরাসরি অথবা অনলাইন উভয় পদ্ধতিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধান রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, এবার থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে অনলাইনে।
এ ছাড়া এবারই প্রথম ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রার্থীরা কিংবা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট-সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ শনাক্তকরণ তথ্যাদি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন।
সংশোধনীতে প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকে সশরীরে প্রচারণা শুরুর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সাদাকালোর পাশাপাশি রঙিন পোস্টার ও ব্যানার করতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে কোনো প্রার্থী পলিথিনে মোড়া বা প্লাস্টিকের পোস্টার বা ব্যানার (পিভিসি) ব্যবহার করতে পারবেন না।
এ ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোটের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে বিধিমালায় ইসির ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়েছে।
প্রথম ধাপের তফসিল হতে পারে আজ : আগামী মে মাসে চার ধাপে ৪৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ২৫ মে।
প্রথম ধাপে ১৫৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) কমিশন সভা রয়েছে। সভা শেষে উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।