লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, কয়েক বছর যাবৎ দেশে অপরাজনীতি, জালভোট কালচার, জবাবদিহিতা এবং একদলীয় পদ্ধতির শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে দেশের ও জনগণের সমস্যা সমাধান বা দেখার কেউ নেই। সরকার ব্যস্ত শুধু ক্ষমতা ধরে রাখতে। ফলে দেশ ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (২২ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, পৃথিবীর সর্বমোট ১৪৩টি দেশে জরিপ করা হয়েছে, তাও আবার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। তারা সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। যা গত বছর ছিল ১১৮তম। এতেই বোঝা যায় বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চারদিকে যুদ্ধের দামামা বাজছে, সবকিছুর মূল্য ৫ থেকে ৭ গুণ বেশি, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আরও প্রকট আকার ধারণ করার সম্ভাবনা খুবই বেশি। ঐ সময় বর্তমান সরকারের অবস্থা কি হতে পারে। সুতরাং এখনো সময় হাতে আছে, মনে রাখতে হবে আমরা কেউ চিরদিন বেঁচে থাকার ভিসা নিয়ে পৃথিবীতে আসি নাই। ফিরে যেতে হবে। নতুন প্রজন্মের আগমন ঘটবে, তাদের আমরা কি ধরনের বাংলাদেশ দিয়ে যাচ্ছি। ফ্লাইওভার, হাইওয়ে আর পদ্মা সেতু খেয়ে কী জীবন রক্ষা পাবে। প্রয়োজন চরম আত্মত্যাগ।
তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদকে লোভ লালসা ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। হারাম রোজগার থেকে বিরত থাকতে হবে। ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। ন্যায়বিচারক হতে হবে। কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করবে না, মানুষকে কষ্ট দেবেন না। সকল প্রকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে, দেশ প্রেমিক হতে হবে। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। মিথ্যা কথা বলা বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া দেশ কখনো সঠিক পথে আসবে না।
কর্নেল অলি বলেন, বর্তমান দেশের বাস্তব অবস্থা কী? শেয়ার মার্কেটের টাকা লুটপাট, ঋণ নিয়ে দেশের বাহিরে টাকা পাচার, সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটপাট, যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে টাকা লুটপাট, ওষুধ কেনার নামে টাকা লুটপাট, সকল প্রকার ক্রয়ের মাধ্যমে টাকা লুট। প্রত্যেকটি কাজের জন্য ঘুষ গ্রহণ, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সময় অতিরিক্ত টাকা আদায়, আমদানি রপ্তানির মাধ্যমে টাকা পাচার, গার্মেন্টসের মাধ্যমে টাকা পাচার, ভালো বদলির জন্য বড় অংকের টাকা ঘুষ দিতে হয়। এমপি পদ পাওয়ার জন্য এবং নির্বাচিত হওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়। চেয়ারম্যান-মেম্বার হওয়ার জন্য দলীয় গুন্ডাদের টাকা দিতে হয়, বিচার পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অর্ধশিক্ষিত লোকেরা স্কুল-কলেজের সভাপতি, সমাজে নীতি নৈতিকতা প্রায় ধ্বংস, অনৈতিক কাজ নিত্য দিনের ঘটনা, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বাদ নাই। প্রয়োজন মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আনা, এতে দেশ এগিয়ে যাবে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, যুব সমাজের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের সদস্য সচিব কাশেম সিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাড. এস এম মোরশেদ, অধ্যক্ষ স্যাকলায়েন, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক কারিমা খাতুন, যুগ্মমহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাড. আবুল হাসেম, প্রচার সম্পাদক অ্যাড. মফিজুল ইসলাম নিলু, ঢাকা উত্তর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক অবাক হোসেন রনি, দক্ষিণের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি আমান সোবহান, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি খালিদ বিন জসিম, গণতান্ত্রিক কৃষক দলের সভাপতি এবিএম সেলিম, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ, গণতান্ত্রিক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মাদ্রাজী, গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি নূরে আলম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল হাসানসহ প্রমুখ।