রমজানের ওমরায় হজের সমান সওয়াব

হজের মতো সুনির্দিষ্ট সময়ে নয়, বরং বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ পালন করা যায়। তা সত্ত্বেও বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলমানরা অধিক সওয়াবের আশায় চলতি রমজান মাসে ওমরাহ পালনের জন্য মক্কা মোকাররমায় ভিড় করছেন।

সৌদি গণমাধ্যম আল আরাবিয়ার সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ১৫ দিনে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করেছেন।সৌদি কর্র্তৃপক্ষ বলছে, এর আগে এত বিপুলসংখ্যক মুসল্লি রমজানে এভাবে ভিড় করেননি। তাদের আশা, আগামী ১৫ দিনে এ সংখ্যা দুই কোটি পার হয়ে যাবে।

ওমরাহ শব্দের আভিধানিক অর্থ জিয়ারত করা, দর্শন করা, ভ্রমণ করা আর শরিয়তের পরিভাষায় শরিয়ত নির্দেশিত বিশেষ পদ্ধতিতে ইহরামসহ কাবা শরিফের চতুর্দিকে তওয়াফ করা, সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যস্থলে সায়ি করা এবং মাথা মুণ্ডন করাকে ওমরাহ বলে।

ওমরাহ বছরের যেকোনো সময় পালন করা জায়েজ। শুধু পাঁচ দিন অর্থাৎ ৯ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ওমরাহর ইহরাম বাঁধা মাকরুহে তাহরিমি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ থেকে পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত মাঝখানের গুনাহগুলোর জন্য কাফফারাস্বরূপ।’ (সহিহ বোখারি : ১৬৮৩)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ আদায় করো। কেননা হজ ও ওমরাহ দারিদ্র্য বিমোচন ও গুনাহ দূর করে দেয় ঠিক সেভাবে, যেভাবে হাপরের আগুন লোহা, স্বর্ণ ও রুপা থেকে ময়লা দূর করে দেয়।’ (সুনানে তিরমিজি : ৮১০)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদকারী, হজ পালনকারী এবং ওমরাহ পালনকারী, তারা সবাই আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহ তাদের ডাক দিয়েছেন, তারা সেই ডাকে সাড়া দিয়েছে। সুতরাং তারা আল্লাহর কাছে যা কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাদের তা প্রদান করবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৯৯৩)

জীবনে একবার ওমরাহ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তাছাড়া তা যখনই করা হোক, তার জন্য প্রতিদান ও বরকত রয়েছে। আর রমজানে ওমরাহ পালন করা মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যখন রাসুল (সা.) হজ থেকে ফিরে এলেন, উম্মে সিনান নামের আনসারি মহিলা সাহাবিকে জিজ্ঞেস করলেন, কীসে তোমাকে হজ পালনে বাধা প্রদান করেছিল? তিনি জবাবে বললেন, আমাদের পানি টানার দুটি উট আছে, একটিতে সওয়ার হয়ে ছেলে ও তার বাবা হজ আদায় করতে গেছেন আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজে আটকা আছে। রাসুল (সা.) বললেন, রমজান মাস এলে তুমি ওমরাহ করে নিও। কেননা রমজান মাসে ওমরাহ করা হজের সমান মর্যাদা রাখে।’ (সহিহ বোখারি : ১৬৯০)

অন্য আরেক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজানে ওমরাহ পালন করা হজের সমতুল্য ইবাদত।’ (সুনানে ইবনে মাজা : ২৯৯৩)

হাল সময়ে দেখা যাচ্ছে, অনেকের ওপর হজ ফরজ। কিন্তু বেশি খরচের দোহাই দিয়ে সে ওমরাহ করে ফরজ দায়িত্ব শেষ বলে মনে করছে, যা কোনোভাবেই সহিহ নয়। মনে রাখতে হবে, নফল ওমরাহ পালন ফরজ হজের সমকক্ষ নয়। যার ওপর হজ ফরজ তাকে হজ আদায় করেত হবে, না পারলে অসিয়ত করে যেতে হবে। অন্যথায় পরকালে আল্লাহর সামনে ফরজ অনাদায়ের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহ সবাইকে সঠিকভাবে সব আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক : ইমাম ও খতিব, দারোগা আমীর উদ্দিন ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা।