দূরযাত্রায় বমি

ঈদযাত্রার আনন্দটাই ম্লান হয়ে পড়ে যদি মোশন সিকনেস থাকে। দূরযাত্রায় অনেকেরই মোশন সিকনেস বা মাথা ঘুরানো ও বমির সমস্যা দেখা দেয়। কারোর আবার মাথাব্যথা বা বমির ভাব হয়। এ সমস্যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় মোশন সিকনেস। অনেকেই গুরুত্ব দেন না অথবা প্রতিকার কী হবে বুঝে উঠতে পারেন না। যার ফলে দীর্ঘদিন এ রকম সমস্যা নিয়েই যাতায়াত করেন। এর ফলে কেউ কেউ দূরের যাত্রাকে ভয় পান। এ সমস্যায় কী করবেন বিস্তারিত জানালেন ডা. নিশাত আমীন

কেন হয়

গতি ও জড়তার ফলে মস্তিষ্কে সমন্বয়হীনতার বাহনগুলোতে বমির সমস্যা হতে পারে। অন্তঃকর্ণ আমাদের শরীরের গতি ও জড়তার ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন কেউ কোনো যানবাহনে চলাফেরা করেন তখন অন্তঃকর্ণ মস্তিষ্কে খবর পাঠায় যে, সে গতিশীল। তবে চোখ বলে ভিন্ন কথা। কারণ, তার সামনের বা পাশের মানুষগুলো কিংবা গাড়ির সিটগুলো থাকে স্থির। আমাদের চোখ আর অন্তঃকর্ণের এই সমন্বয়হীনতার কারণে মোশন সিকনেস হয়। আবার অ্যাসিডিটি, অসুস্থতা, গাড়ির ধোঁয়া কিংবা বাজে গন্ধের কারণেও বমি হতে পারে।

প্রতিকার

মোশন সিকনেসের সমস্যা থাকলে তারা গাড়ি চলে তার উল্টো দিকের সিটে বসবেন না। কারণ, উল্টো দিকে বসলে বমিভাব বেশি হয়। চেষ্টা করবেন গাড়ির সামনের দিকে বসার। কারণ, পেছনে বসলে গাড়িকে বেশি গতিশীল মনে হয়, যার ফলে দ্রুত ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং মোশন সিকনেস দেখা দেয়। চেষ্টা করবেন জানালার পাশে বসার এবং জানালা খোলা রাখার। এসি পরিবহন হলে এ ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু করার নেই। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করুন, এতে মোশন সিকনেস হওয়ার আশঙ্কা কমে। বমি করার কথা চিন্তা করবেন না, এতে বমির ট্রিগার হতে পারে। আপনার সঙ্গে কেউ সহযাত্রী থাকলে গল্প করুন, কথা বলুন। চোখ বন্ধ রাখতে পারেন কিংবা ঘুমিয়ে যেতে পারেন। যাত্রার আগের দিন ঠিকমতো ঘুম হওয়াও জরুরি। অনেক সময় ঠিকভাবে ঘুম না হওয়ার কারণে মাথাব্যথা ও বমি হয়। গাড়িতে ওঠার আগে হালকা কিছু নাশতা খেতে পারেন। কখনোই খালি পেটে যাত্রা করবেন না। ভ্রমণের আগে বেশি খাবার খাবেন না। যাত্রাপথে যত কম খাবেন, তত ভালো। বমি ভাব দূর করার জন্য আদা, লেবু, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেঁতুল চাটনি, আচার, কমলা বা টক জাতীয় যে কোনো ফল সঙ্গে রাখতে পারেন। লেবু পাতাও সঙ্গে রাখতে পারেন। এর সুঘ্রাণ বমি ভাব দূর করে। চুইংগাম, লজেন্স খেতে পারেন। এতে বমি ভাব কম হবে। কানের পেছনে লাগানোর জন্য এক ধরনের প্যাঁচ পাওয়া যায়। ভ্রমণের আগে সেটাও ব্যবহার করতে পারেন।

কিছুক্ষণ শ্বাস ধরে রাখলে বমি কমে যেতে পারে। মনে হচ্ছে এখনই বমি করে ফেলবেন। এই পরিস্থিতিতে চিন্তা না করে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। চোখ বন্ধ করে রাখুন। কিছুক্ষণ এভাবে থাকলে দেখবেন বমি বমি ভাবটা কেটে যাচ্ছে। শরীরে পানির অভাব ঘটলে বমি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বমি পেলে ভুল করেও  আবার পানি পান করতে যাবেন না। এতে সমস্যা বাড়বে ছাড়া কমবে না। পানি যদি খেতেই হয় ঠান্ডা পানি একেবারেই নয়। বরং হালকা গরম পানি অল্প অল্প পান করতে পারেন। এতে স্বস্তি পাবেন। গাড়িতে উঠলেই বমি সমস্যায় সঙ্গে রাখতে পারেন এলাচের বীজ। কয়েকটি বীজ মুখে পুরলে বমির ভাব কেটে যেতে পারে। এক কাপ পানিতে আধা চামচ দারুচিনি গুড়ো মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে নিয়ে খেতে পারেন। বমির সমস্যা কমবে। বমির সমস্যা থাকলে যাত্রার আগে ভরপেট খাবেন না। হালকা খাবার খেয়ে গাড়ি বা বাসে উঠুন।

জেনে নিন

বমি রোধে কিছু সাধারণ ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন। অনডেনসেট্রন জাতীয় ওষুধ গাড়িতে উঠার আগে এক দুই ঘণ্টা আগে খেয়ে নিতে পারেন। ওমিপেরিডন জাতীয় ওষুধও খাওয়া যেতে পারে, তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত বমির ট্যাবলেট খেলে বিপদ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ে। যারা মোশন সিকনেস নিয়ে খুব বেশি সমস্যায় আছেন এবং বারবার এ রকম সমস্যা হচ্ছে, তাদের উচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দূরের পথে যাত্রা করা।