সব রোগের ওষুধ কালিজিরা

ডা. হাকিম নার্গিস মার্জান

অল্টারনেটিভ মেডিসিন গবেষক, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ

কালিজিরা Ranunculaceae পরিবারের মাঝারি আকৃতির মৌসুমি উদ্ভিদ। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে কালিজিরার চাষ হয়। শতাব্দীকাল ধরে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ এবং আফ্রিকার মানুষ কালিজিরাকে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহার করে আসছে।

কালিজিরার বীজ এবং এর তেল ২০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার হচ্ছে। কালিজিরাকে হিপোক্রেটস এবং ডায়াসক্রোয়েডস

‘প্রকৃতির অনন্য উপহার’  বলে উল্লেখ করেছেন। আয়ুর্বেদিক এবং মিথ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। আরবীয় সাহিত্যে কালিজিরাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিব্ব-ই নববী ওষুধে কালিজিরা ব্যবহার করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা রয়েছে। 

কী আছে : কালিজিরায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় যৌগগুলো হলো

থাইমোকুইনোন, থাইমোহাইড্রোকুইনোন, ডিথাইমোকুইনোন, পি-সাইমেন, কারভাক্রোল, ৪ টেরপিনল, টি-অ্যানথল, সেসকুইটারপেন, লংইফোলিন, এ-পাইনেন, থাইমল, অ্যালকালয়েডস, স্যাপোনসিনেল, ফ্যাভোনয়েড, প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড, এসেনসিয়াল অয়েল ইত্যাদি। এ ছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন (ভিটামিন এ, বি১, বি২, সি) খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, তামা এবং জিঙ্ক রয়েছে।

উপকারিতা : কালিজিরা শক্তিবর্ধক ও হজমে সহায়ক। এটা শ্বসনতন্ত্র, কিডনি ও লিভার রোগে কার্যকরী। শারীরিক ব্যথা উপশম করে। কালিজিরার ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসবিরোধী, প্রদাহনাশক, অ্যান্টি-অঙ্কেডন্ট, খিঁচুনিরোধক, উচ্চরক্তচাপবিরোধী, হাইপোটেনসিভ, ইনসুলিন সংবেদনশীল ও বেদনানুভূতিনাশক গুণ রয়েছে।

কালিজিরা এবং এর তেল খাবার ও ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পরিপাকতন্ত্র, শ্বসনতন্ত্র, রক্তসংবহনতন্ত্র, কিডনি এবং লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে কালিজিরা খাওয়া হয়। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, বাত-বেদনা এবং প্রদাহজনিত রোগে ভালো কাজ করে। রোগব্যাধি মুক্ত থাকতে নিয়মিত কালিজিরা খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।