দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা। তার বিরুদ্ধে "রোলেক্সগেট" নামক চলমান একটি দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মার্চ) পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের বাড়িতে অভিযানটি পরিচালনা হয়। খবর বিবিসি।
অভিযানের সময় কর্তৃপক্ষ এক ডজনেরও বেশি রোলেক্স ঘড়ির সন্ধান করে। মূলত বিলাসবহুল এসব ঘড়ি প্রেসিডেন্ট বোলুয়ার্তে কাছে থাকলেও তিনি তা ঘোষণা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে শনিবারের এই অভিযানকে পেরুর সরকার অবশ্য ‘অসাংবিধানিক’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পেরুর প্রধানমন্ত্রী গুস্তাভো আদ্রিয়ানজেন লিখেছেন, ‘যে রাজনৈতিক গোলমাল করা হচ্ছে তা গুরুতর। এটি বিনিয়োগসহ সমগ্র দেশকে প্রভাবিত করছে।‘
যদিও চলতি মাসের শুরুতেই সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে যে গত দুই বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বোলুয়ার্তের সম্পদ ঘোষণা পর্যালোচনা করবে তারা। তবে গত সপ্তাহে বোলুয়ার্তে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি পরিষ্কার হাতে সরকারে প্রবেশ করেছেন এবং পরিষ্কার হাতেই এটি ছেড়ে যাবেন।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে তার ব্যবহৃত রোলেক্সটি পুরানো যা তিনি ১৮ বছর বয়স থেকে কাজ করে তার নিজ উপার্জিত অর্থ দিয়ে কিনেছিলেন।
বিবিসি বলছে, শনিবার ভোরে হওয়া এই অভিযানে পুলিশ এবং প্রসিকিউটর অফিসের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছিল এবং স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল লাতিনাতে এটি সম্প্রচার করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশ প্রেসিডেন্টের বাসভবনের দরজা ভেঙে ফেলে।
প্রধানমন্ত্রী গুস্তাভো আদ্রিয়ানজেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এই অভিযানের সময় তার অফিসে ছিলেন। যদিও দিনা বোলুয়ার্তে এখনও অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী আরপিপি রেডিও স্টেশনকে জানিয়েছেন যে, বোলুয়ার্তের পদত্যাগ করার কোনও পরিকল্পনা এখনও নেই।
মূলত ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে নানা রকম বিলাসবহুল ঘড়ি পরতেন পেরুর প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তে। সে বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয় দেশটিতে।