ক্ষমতাবলে হয়েছেন অধ্যক্ষ, বাগিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা!

যশোরের মনিরামপুরে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিগত ১৫ বছর যাবত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা ও ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। সাবেক প্রতিন্ত্রীর সহধর্মিণীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ইচ্ছানুযায়ী হয়েছেন প্রধান, আবার বাগিয়ে নিয়েছেন সভাপতির পদও। করেছেন লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য। বর্তমানে তিনি স্কাউটসের উপজেলা সম্পাদকের পদেও আসীন।

জানা যায়, রামনাথপুর গ্রামের কওছার আলীর ছেলে রেজাউল করিম উপজেলার নেংগুড়াহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের কয়েক বছর পরই সহকারী প্রধান হিসেবে উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগদান করেন। এবং পরে প্রতিষ্ঠান প্রধান হন তিনি।

অনেকের ধারনা নিয়োগ বাণিজ্য করতেই ২০১৪ সালে চলে যান পূর্বের কর্মক্ষেত্র নেংগুড়াহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে একাধিক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উপজেলার খাটুরা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলামকে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী আসাদুল ইসলাম জানান, তিনি সমাজ বিজ্ঞানে নিবন্ধনধারী ছিলেন। ২০১৫ সালে নেংগুড়াহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সমাজবিজ্ঞান পদে আবেদন করলে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রেজউল করিম নিয়োগের বিনিময়ে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। তার দাবির প্রেক্ষিতে রাজগঞ্জ এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও ইব্রাহিম খলিল নামের দুই প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ২০১৫ সালের ২৮ জুন ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর একই সালের ১০ জুলাই নিয়োগ বোর্ড করেন। এরপর বাকি ৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও নানা অজুহাতে তাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও ফল পাননি তিনি।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, রেজাউল করিম সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যে সহধর্মিণী তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের কাছের লোক হওয়ায় অভিযোগ করার সাহস পাননি বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে রোজার ছুটির মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় খাতা কেড়ে নেওয়ায় সাবিনা নামের এক শিক্ষার্থী চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষক রেজাউলের বিচার চেয়ে মানববন্ধনও হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর বোর্ডের উপ কলেজ পরিদর্শক মদন মোহন দাস জানান, সরকারি নির্দেশনা মতে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশের দিন ধার্য ছিল। গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনিয়ম করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ রেজাউল করিম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাবোর্ডের মৌখিক অনুমতি নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।