কুমিল্লা জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস. এম. সরওয়ার কামালের ৮ কোটি টাকার একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ওই অঙ্গীকারনামা ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন-১
শাখার উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামালকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম রবিবার (১৭ মে) দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে নোটশটি জারি করা হয়েছে। এটা সত্য। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতনরা কথা বলবেন।’
এদিকে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল থেকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্রে
স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন রবিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই। জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের সঙ্গে আমার সংযোগ নেই। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায় আসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার
কামালের উক্ত অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে এ
বিষয়ে বক্তব্য জানতে রবিবার বিকেলে এস এম সরওয়ার কামালকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি তিনি।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এস এম সরওয়ার কামালকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ তিন কার্যদিবসের মধ্যে (১৭ মে) লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নের লক্ষ্যে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের প্রমাণ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।’
সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে রাজস্ব বিভাগে অর্থ আদায়, কর্মচারীদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া, স্কেল প্রদানের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, মিটিং ও পিকনিকের নামে চাঁদা আদায়, সার্কেল ভিজিটের নামে অর্থ সংগ্রহ, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে উপহার গ্রহণ এবং বিভাগে দালাল নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এস এম সরওয়ার কামাল বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। উপসচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি ডেপুটেশনে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ মাঠ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে করা অঙ্গীকারনামায় এস. এম. সরওয়ার কামাল নিজেকে উপসচিব ও বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান
রাজস্ব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, ‘এই মর্মে স্বেচ্ছায় ও সুস্থ মস্তিষ্কে অঙ্গীকার ও সম্মতিপত্র প্রদান করিতেছি যে, জনাব ড. মো. জিয়াউদ্দীন মহোদয়, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ, সরকারের নিকট সুপারিশক্রমে আমাকে কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক পদে
পদায়নের ব্যবস্থা করিতে সক্ষম হইলে, আমি সানন্দে উক্ত পদে যোগদান করিতে সম্মত থাকিব। সরকার কর্তৃক কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক পদে আমার নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হইবার পর আমি সম্মানী স্বরূপ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়কে নগদ ৮ কোটি টাকা মাত্র প্রদান করিব বলিয়া অঙ্গীকার করিতেছি।
এছাড়াও, কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করিব এবং তাহার মনোনীত সকল রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি (সংসদ সদস্য) ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সহিত সমন্বয়পূর্বক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিব।”