শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন। তার পরিচয় অনেক। একাধারে লেখক, চিত্রশিল্পী এবং পরিচালক। আফজাল হোসেন ভূষিত হয়েছেন একুশে পদকে। আশির দশকে বিটিভিতে আফজাল-সুবর্ণা জুটি ছিল ঈর্ষা করার মতো। যদিও থিয়েটারে অভিনয় শুরু সত্তর দশকের মধ্যখানে। এখনো দাঁড়ান ক্যামেরার সামনে। সত্তর ছুঁইছুঁই এই মানুষটিকে দেখলে অসম্ভব প্রাণবন্ত, মায়াবী মনে হয়। মধ্যাহ্নের শুরুতেই এলেন দেশ রূপান্তরে। চারপাশ ঘিরে ছিলেন সহকারী সম্পাদক তাপস রায়হান, আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ, সহ-সম্পাদক এনাম-উজ-জামান বিপুল এবং ডিজিটাল প্রযোজক লিটু হাসান। ক্যামেরায় ছিলেন নুরুস সাফা
জনপ্রিয় এই অভিনেতার জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৯ জুলাই সাতক্ষীরার পারুলিয়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট কলেজে পড়াশোনা। গত শতকের সত্তর দশকের মাঝামাঝিতে থিয়েটারে অভিনয় শুরু। একসময় অভিনয় কমিয়ে নির্মাণ করতে থাকেন বিজ্ঞাপন। ২০১১ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শুধু একটাই পা’।
ডিজিটাল রুমে চলছে এলোমেলা কথা বলা। শুরুতেই এনাম-উজ-জামান
বিপুল বলছেন আসলে আফজাল ভাই, আপনার একটা সুবিধা আছে। আপনি আঁকতে পারেন আবার লিখতেও পারেন। বাচ্চাদের পাতায় একজন মানুষ এই দুটো জিনিস করতে পারলে কিন্তু অনেক ভালো। কোথাও একটি কবিতা ছাপা হলে কেউ বলে দেখছি। পড়ার কথা কিন্তু বলছে না। সাহাদাত পারভেজ বললেন আপনি যাই লেখেন, মানুষের সমালোচনার শেষ নেই। এনাম-উজ-জামান বিপুল বললেন কেউ কোনো স্ট্যাটাসের প্রশংসা করলেও সেটা ইনবক্সে বলে, ওয়ালে না। কেউ প্রাণখুলে কোনো লেখার প্রশংসা করছে না। কিন্তু সমালোচনা হচ্ছে ইচ্ছামতো। এর তো একটা ভাষা আছে। আফজাল হোসেন বললেন দুঃখজনক হচ্ছে, ‘সম্মান’ বিষয়টা আমাদের মধ্যে কমে গেছে। এনাম-উজ-জামান বিপুল বললেন এখন আর কোনো ভালো-মন্দের বাছবিচার নেই। আমার ভালো লাগেনি, আমি গালাগাল করব। সাহাদাত পারভেজ বললেন একটা কঠিন কথাও তো সুন্দর করে বলা যায়। আজজাল হোসেন এবার মুখ খুললেন। বললেন ‘সুন্দর’ বিষয়টা তো জানতে, বুঝতে হবে নাকি? সোশ্যাল মিডিয়া অনেকটা... দখলে। এখন জানার কোনো তাড়না নেই। আমাদের সময় লেখা তো দূরের কথা, উচ্চারণ ভুল হলেই লজ্জা পেতাম। অভিনয় করতে চাই, কিন্তু গভীর বোধ নেই তার জন্য অনেককে অপমানিত হতে হতো। আর এখন? লিটু হাসান বললেন আগে বিজ্ঞাপনের মধ্যে একটা সুন্দর দৃশ্যকাব্য ফুটে উঠত। সেই পাকিজা, আপন জুয়েলার্স, কসকোর কথাগুলো এখনো কানে বাজে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ বিজ্ঞাপনের ভাষা কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। এমন সময় নুরুস সাফা বলে উঠিলেন রোলিং...। শুরু হলো গুছিয়ে কথা বলা।
তাপস রায়হান : আপনার পরিচয় বহুমাত্রিক। মূলত কোন পরিচয়ে আমরা একজন আফজাল হোসেনকে জানব?
আফজাল হোসেন : (তিনি এমন প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসলেন। একটু কী যেন ভাবলেন। এরপর বললেন) তখন খুলনা এখন সাতক্ষীরা থেকে আমি ঢাকা এসেছিলাম, একজন শিল্পী হওয়ার জন্যই।
তাপস রায়হান : এরপর?
আফজাল হোসেন : পাস করার বছরেই আর্ট কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান হয়। তখন মনে হলো, ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ‘নাটক’ থাকলে ভালো হয়। রফিকুননবী স্যার ছিলেন আমাদের শিক্ষক এবং উদযাপন কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সভাপতি। তার কাছে প্রস্তাব রাখি, আমরা একটা নাটক করতে চাই। স্যার বললেন, তাহলে তো ভালোই হয়। নাটকটা ছিল আল মনসুরের লেখা ‘বিদায় মোনালিসা’। আল মনসুর আবার ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। তখন ঢাকা থিয়েটার আমাদের ব্যাকস্টেজ সাপোর্ট দেয়। নাটকে অভিনয় শুরু হলো ’৭৫ সালে। অভিনয়ের পর নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাই বললেন তুমি সিরিয়াসলি থিয়েটার করতে চাও কি না? এই যে ‘সিরিয়াসলি থিয়েটার’ করার কথা, এটা আমার কানে বাজল। এখন বলি সেটা কী, তা বুঝতে হবে ঢাকা থিয়েটারে এসে। এর পরই তো অনেক কিছুর সঙ্গে যুক্ত হলাম। তবে একটা ক্ষতিও কিন্তু হয়েছিল। থিয়েটারে যুক্ত হওয়ার পর একটা লম্বা সময় আমি আঁকাআঁকি থেকে দূরে ছিলাম। তবে বুককভার করার মতো আঁকাআঁকিটা অব্যাহত ছিল। কিন্তু ক্যানভাসে ছবি আঁকার সময়টা ছিল না। এখানে নিজেকে পরিপূর্ণ সমর্পণ করতে হয়। এটা ভালোবাসা, কমিটমেন্টের জায়গা। সারাজীবন যে কর্মকা-ের মধ্যে আমি ছিলাম, তা কিন্তু শিল্পী হয়ে ওঠার একটা প্রক্রিয়া। আসলে এক অর্থে আমার কোনো লক্ষ্য ছিল না। আমাকে এই হতে হবে, সেই হতে হবে কোনোটাই পরিকল্পনার মধ্যে ছিল না। পরিকল্পনা একটাই ছিল, আমি শিল্পী হয়ে উঠতে চাই। সবসময়ই আমি একটা শিল্পচর্চার মধ্যে ছিলাম। আমার মধ্যে বিখ্যাত হওয়ার তাগিদ ছিল না। সারাজীবন যাদের সঙ্গে মিশেছি, যাদের ভালোবেসেছি, তাদের দেখে বেড়ে ওঠার একটা তাগিদ ছিল।
সাহাদাত পারভেজ : লেখালেখিতে আপনার ঝোঁক প্রবল। এত সময় পান কীভাবে?
আফজাল হোসেন : আসলে লেখালেখি করতে সময় লাগে না। এটা একটা স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। এটা কীভাবে যেন মনের মধ্যে চলে আসে। আপনি যখন লিখতে পারছেন, তখন মনে হচ্ছে আপনি লিখছেন না। অন্য কেউ লিখছে। তবে একটা কথা কী আমার সময়টা খুব অনুকূল ছিল। আমি কিন্তু কোথাও উপযাজক হয়ে কিছু করতে পারি না। আমাকে যদি নিজ উদ্যোগে টিভিতে গিয়ে অভিনয় করতে হতো, করতাম না। মঞ্চে যদি অভিনয় করার আগ্রহ দেখিয়ে যেতে হতো, যেতাম না। (ঘাড় নাচিয়ে মুচকি হেসে) লেখাও কিন্তু আমাকে জোর করে করানো হয়েছে। একটা মজার ঘটনা বলি। আগের টার্মেও যিনি মন্ত্রী ছিলেন মোস্তাফা জব্বার। তার একটা বিখ্যাত পত্রিকা ছিল। একদিন তিনি আমাকে ধরে নিয়ে তার অফিসে আটকে রাখলেন। বললেন লেখা শেষ করে বের হবে। খাবার-দাবার যা লাগবে, চলে আসবে। হাহাহাহাহা।
এনাম-উজ-জামান বিপুল : আপনার একটা বই পেয়েছিলাম। এক পাশে আপনার ছবি আর অন্যদিকে ইমদাদুল হক মিলনের ছবি। এতে বোঝা যায়, আপনাদের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। আপনার লেখালেখির বিষয়ে জানতে চাইছি?
আফজাল হোসেন : ‘সম্পর্ক’ ছিল না, এখনো আছে। আসলে তখন তো আমি লেখালেখিই করি। অবশ্য প্রকাশ্যে করতাম না। তবে বন্ধুবান্ধব জানত। কিন্তু সেটা ছাপার কোনো আগ্রহ ছিল না। এক সময় আমাকে প্রস্তাবটা দেয় মিলনই। ও তখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বলল শোন, এটা একটা নতুন বিষয় হবে। একটি বইয়ের দুটো প্রচ্ছদ হবে। তোর পাঁচটি গল্প, আমার পাঁচটি গল্প থাকবে। নাম ঠিক করা হয় ‘যুবকদ্বয়’। নামটা আমিই দিয়েছিলাম। থিয়েটার বা কিশোর সাহিত্য করার সুবাদে এই শহরের লেখক, কবি, সাংবাদিকসহ অনেকের সঙ্গেই কীভাবে যেন সম্পর্ক তৈরি হয়ে যেত। কীভাবে হয়েছে, সেটার ব্যাখ্যা করতে পারব না। একটা পর্যায়ে দেখলাম, সবাইকেই চিনি। অনেক সৌভাগ্য যে, নামকরা কবিদের আমি চিনি, সাংবাদিকদের চিনি, জানি, ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। তখন তো ফুটবলের রমরমা অবস্থা। অনেকের সঙ্গেই পরিচয়, সম্পর্ক। সবাই যেন একটা আদর্শ, ভালোবাসা দিয়ে একটা কাজ করছে।
সাহাদাত পারভেজ : ইমদাদুল হক মিলন ভাইয়ের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ কীভাবে হলো?
আফজাল হোসেন : ওই পত্রিকা থেকেই। মিলন, ফরিদুর রেজা সাগর ওদের সঙ্গে তখন থেকেই সম্পর্ক।
এনাম-উজ-জামান বিপুল : অন্য অনেক কিছু করলেও, লেখালেখিটা আর সেভাবে কেন অগ্রসর হলো না?
আফজাল হোসেন : আসলে এতকিছু করার পর আর সময় পাই না। একটা ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে আমি যেন নিয়মিত লিখি, তার জন্য অনেক প্রকাশক দীর্ঘদিন পেছনে লেগে ছিলেন। আসলে সব হয় না।
সাহাদাত পারভেজ : আমরা চাই, আপনি নিয়মিত লেখেন। ব্যবসা করছেন, মাত্রাভিশনের মতো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। অভিনয় করছেন। এত কিছু?
আফজাল হোসেন : ‘মাত্রা’ আমি চালাই না। আমার বন্ধু চালায়। ওই-ই সব দেখে। আমি শুধু বসি। হাহাহাহাহাহা।
সাহাদাত পারভেজ : তারপরও তো টাকা-পয়সা গুনতে হয়?
আফজাল হোসেন : (মুচকি হাসি) তাও পারি না। পারি না বলেই, গুনতে চাই না।
লিটু হাসান : একজন আফজাল হোসেন হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা কে দিচ্ছে? ৭০ বছরের এই তরুণের গল্পটা শুনতে চাইছি?
(সাহাদাত পারভেজ বললেন দেখে কিন্তু মনে হয় না, আপনার বয়স ৭০! মনে হয়, আপনার বয়স ৫০। আফজাল হোসেন হেসে বললেন হাহাহাহাহা, আমি কিন্তু বুঝতে পারি। সবাই হো হো করে হেসে উঠলেন।)
আফজাল হোসেন : যদি পেছনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব অনেক মানুষের মুখ। ‘জীবন’ কিন্তু একটা দীর্ঘপথ। এর নানান বাঁক আছে। প্রত্যেক বাঁকেই কেউ না কেউ আপনার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছে। মা, বাবা তো আছেই। এই যে আমি আর্ট কলেজে ভর্তি হলাম, এখানেও তো অনেকেই আছেন। আমাকে মঞ্চনাটকে বাচ্চু ভাই এগিয়ে দিয়েছেন। আদুল্লাহ আল-মামুন এগিয়ে দিয়েছেন।
তাপস রায়হান : টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের কথা জানতে চাইছি?
আফজাল হোসেন : টেলিভিশনে তখন মাসে একটা নাটকে অভিনয় করা যেত। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে, ‘বিশেষ অনুমতি’ নিতে হতো। এটার কারণ হচ্ছে, ওই সময়ে যারা ছিলেন তারা সবাই যেন একটা নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। কেউ-ই দাবি করতে পারেন না, আমি হাজার হাজার নাটকে অভিনয় করেছি। আমার ভালো লাগে, যদি পেছনের দিকে তাকাই সেরা নাটক, সেরা প্রযোজকের নাটকে অভিনয় করেছি। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। তারপরও কিন্তু হিসাবে করলে দেখা যাবে ৫০০-এর কম হবে না। এটা কিন্তু সব মিলিয়ে। সব বিটিভিতে না। এখানেও তো অনেকেই আছেন। তবে একের পর এক নাটকে আমাকে দিয়ে অভিনয় করিয়েছেন, আতিকুল হক চৌধুরী।
লিটু হাসান : কার অভিনয় আপনাকে বেশি টেনেছে? কাউকে অনুসরণ করতেন?
আফজাল হোসেন : আসলে যারা তখন অভিনয় করতেন, তখন সিনেমায় যারা অভিনয় করতেন, তখন মনে হয়নি- কারেও কাজে ত্রুটি রয়েছে। সবার অভিনয়ের মধ্যেই এক ধরনের বিশেষত্ব রয়েছে। আর টেলিভিশনের কথা বললে বলব, টেলিভিশনেও তাই। আমাদের আগে যারা অভিনয় করেছেন, যেমন- সৈয়দ আহসান আলী, গোলাম মোস্তাফা ওই মাপের অভিনেতা আমি দেখিনি। আব্দুল্লাহ আবু সাইয়িদ, ফজলে লোহানীর মতো উপস্থাপক, জুয়েল আইচ যাদের কথাই বলব, প্রত্যেকেই কিন্তু ‘বিশেষ’ ছিলেন। কেউ এভারেজ না। এমনকি যদি বলি, আমরা যারা সমসাময়িক ছিলাম, আল- মনুসর আমাদের একটু সিনিয়র ছিলেন। রাইসুল ইসলাম আসাদ, সুবর্ণা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে প্রেরণা বা শিক্ষা দেয়।
লিটু হাসান : ওটিটি প্লাটফর্মে আপনি যখন খল চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন কি হুমায়ূন ফরীদিকে মিস করেন?
আফজাল হোসেন : অনেক। খুব মিস করি। আমার মনে হয়, ফরীদি এটা করলে আরও ভালো অভিনয় করত। আসলে ওতো অভিনয় ছাড়া জীবনে আর কিছু করতে চায়নি, কিচ্ছু না। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে ‘ফরীদি’ যে ‘ফরীদি’ হয়ে উঠল সেটা হচ্ছে, ২০ বছর আগের টিভি নাটকগুলো দিয়ে। এর পরের নাটকে কিন্তু তেমন সুযোগ পায়নি। ও ফিল্মে গেল, ওটা পরিবর্তনের জন্য। আমি মনে করি না, সেই সুযোগটা ও পেয়েছে। আসলে আমাদের মতো দেশে শুধু অভিনয় করে একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারবেন না। ফরীদি কিন্তু বেঁচে থেকেও, বেঁচে ছিল না।
লিটু হাসান : আপনাদের মতো লিজেন্ডারি অভিনেতাদের নেপথ্যের গল্পটা জানতে চাই?
আফজাল হোসেন : ( লিটু হাসানকে থামিয়ে দিলেন। বললেন-) আমার কথা বাদ দেন। বাংলাদেশে ৬-৭ বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে রাইসুল ইসলাম আসাদ। আমাদের সময়ে মঞ্চে শ্রেষ্ঠ চরিত্রে সে অভিনয় করেছে, টেলিভিশনে অসাধারণ সব নাটকে অভিনয় করেছে, সেরা সিনেমাতে অভিনয় করেছে সেই আসাদের নাম আমরা কয়জন উল্লেখ করি? এখন কি তার কোনো অভিনয় দেখতে পাই? (লিটু হাসান বললেন আমরা তো অনেক বড় বড় কথা বলি। তাপস রায়হান বললেন অভিনয় শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন তো নেই আমাদের দেশে। এ রকমই তো হবে। আফজাল হোসেন বললেন আমি তো সেটাই বলছি।)
সাহাদাত পারভেজ : সৃষ্টিশীলতা এক ধরনের পরম্পরা। বিষয়টা কি জেনেটিক্যাল? আপনাদের পরিবারে এমন কেউ ছিলেন?
আফজাল হোসেন : আমার আব্বা ছবি আঁকতেন। আব্বার কারণেই এসব বিষয়ে উৎসাহ। তিনি পেশায় ছিলেন ডাক্তার। রোগী বা কারও সঙ্গে কথা বলতেন আর প্রেসক্রিপশনের উল্টো পাশে খুশিমতো আঁকতেন। তিনি ইংরেজি অক্ষরগুলো নিজের মতো করে লিখতেন। আমি মনে করি, তিনি অনেক বড় শিল্পী ছিলেন। এখন বুঝতে পারি এসব। এ কারণেই ছবি আঁকতে আসা।
তাপস রায়হান : আপনার ভাই-বোন?
আফজাল হোসেন : আমরা ২ ভাই, ১ বোন। আমি সবার বড়। হেসে বললেন বোনটা আমার চেয়ে ২০ বছরের ছোট। সবাই কাছাকাছিই থাকি।
সাহাদাত পারভেজ : ব্যক্তিজীবনের কথা জানতে চাই?
আফজাল হোসেন : আমার ২ ছেলে। বড় ছেলে থাকে আমেরিকায়। ও প্রথমে পড়েছে ফিল্ম ডিরেকশন নিয়ে। এরপর মাস্টার্স করেছে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে। আর ছোট ছেলে, ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবে। যা ইচ্ছা, তাই পড়বে। আমাদের কোনো কথা নেই। আর বোনের ২ সন্তান। ভাইয়েরও ২ সন্তান। আমার স্ত্রী ঘরণী। ওই আমার ছায়া। আমরা সবাই কাছাকাছিই থাকি। আমরা ৩ ভাইবোন আলাদা বাসায় থাকি, কিন্তু বাকি সব এক। আমাদের সন্তানরা সপ্তাহে ১ দিন একসঙ্গে হয়। ওরা ওদের মতো থাকে।
তাপস রায়হান : শেষ কোনো কথা?
আফজাল হোসেন : ভালোকে ভালোবাসি। এই ভালোই আমাকে ভালোভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে।
গ্রন্থনা : অনিন্দিতা আচার্য
ছবি : আবুল কালাম আজাদ
লোকেশন : গ্রিন লাউঞ্জ