জীবনের চিরন্তন পথে একাত্তরের কণ্ঠসৈনিকরা হারিয়ে যাচ্ছেন। দেশ-বিদেশে বেঁচে আছেন কয়েকজন। একদিন যাদের গানে ছিল বুলেটের ঝাঁজালো গন্ধ, সেই তাদেরই একজন তিমির নন্দী। যিনি এখনো প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল। দুপুর গড়াতেই, ধীরপায়ে এলেন দেশ রূপান্তর অফিসে। কিছুক্ষণ আড্ডার পর গেলেন ছবি তুলতে। এরপর সরাসরি ডিজিটাল রুমে। তাকে ঘিরে আছেন বিশেষ প্রতিনিধি উম্মুল ওয়ারা সুইটি সিনিয়র কপি এডিটর সাইফ তারিক, সহকারী সম্পাদক তাপস রায়হান, সিনিয়র সহ-সম্পাদক মোহসীনা লাইজু এবং সিনিয়র সহ-সম্পাদক দীপংকর দীপক। ক্যামেরায় ছিলেন কনটেন্ট এডিটর নুরুস সাফা
তখনো ক্যামেরার সামনে আড্ডা শুরু হয়নি। তিমির নন্দী কী বলে যেন ভিন্ন এক প্রসঙ্গে চলে গেলেন। উম্মুল ওয়ারা সুইটির একটি প্রশ্নের উত্তরে শুধু নিঃশব্দে হাসলেন। অন্যদিকে মনে হলো, আরও কিছু শোনার জন্য সাইফ তারিক, তাপস রায়হান, মোহসীনা লাইজু এবং দীপংকর দীপক তাকিয়ে আছেন তিমির নন্দীর মুখের দিকে। কিন্তু তিনি আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলতে শুরু করলেন। তার কাছে প্রথমেই প্রশ্ন রাখেন তাপস রায়হান
তাপস রায়হান : আপনি ১৯৬৯ সালে যখন রেডিওতে কাজ করছেন, তখন থেকেই জড়িয়ে পড়েন স্বাধিকার আন্দোলনে। তারপর একাত্তর। সেই দুর্বার দিনগুলোর কথা শুনতে চাই?
তিমির নন্দী : এর আগে কিছু কথা বলতে হবে। ১৯৬৯ সালে ইস্ট পাকিস্তান মিউজিক কম্পিটিশন হয়েছিল। সেখানে আমি আধুনিক গানে ফার্স্ট আর পল্লী গীতিতে সেকেন্ড হই। এর মানে গোল্ড মেডেল আর সিলভার মেডেল। তারপরই রেডিও পকিস্তান, ঢাকা কেন্দ্র যেটা শাহবাগে ছিল। আর পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন, যেটা ডিআইটি ভবনে ছিল। সেখান থেকে লোকজন এসে আমাকে নিয়ে যায় টেলিভিশনে। তখন থেকেই আমার মিডিয়ায় সংগীত পরিবেশন শুরু। এর আগে বলতে গেলে, ছোটবেলা থেকেই গান করি।
তখন ঢাকা উত্তাল। একদিকে গণ-অভ্যুত্থানের ঢেউ, অন্যদিকে জোরালো হচ্ছে স্বাধিকারের দাবি। মেজো দা হচ্ছেন, প্রয়াত তরুণ কুমার নন্দী। আপনারা তাকে চিনতে পারেন। সংসদ ভবনের উল্টো পাশে, সংসদ সদস্যদের জন্য যে ভবন রয়েছে, গণভবন, আমিন বাজার ব্রিজ তার হাত দিয়েই তৈরি। যাই হোক, মেজো দা বিয়ে করেছিলেন কুড়িগ্রামে। ১৯৭১ সাল। ঢাকা তখন উত্তাল। সে সময় দাদা আমাদের বললেন, তোমরা কুড়িগ্রাম চলে যাও। ওখানে গিয়ে পড়াশোনা শুরু কর। আমি বই পাঠিয়ে দিচ্ছি। এদিকে আমরা ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলাম। তখন মেজো বৌদির দাদা, যিনি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তার তত্ত্বাবধানে আমরা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের বিভিন্ন জায়গায় আধুনিক, দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করতে থাকি। তখন কিন্তু আমার বয়স ১৪। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়টা বলি। ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি আর্মিরা ক্র্যাক-ডাউন করল, গ্রামের পর গ্রাম জ¦ালাতে থাকল এ ধরনের খবর তখন রেডিওতে পাচ্ছিলাম। পাকিস্তান আর্মি যখন রংপুরে চলে এলো, তখন আমরা সবাই মিলে সেই বাড়ি থেকে, দাদার শ্বশুরবাড়ির গ্রামের বাড়ি ‘বাগুয়া’তে চলে গেলাম। পৌঁছালাম সন্ধ্যার দিকে। ব্রহ্মপুত্র নদ সেখান থেকে মাত্র দেড় মাইল দূরে। আর আসামের গারো পাহাড় দেখা যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যা হতেই অনেকেই শুয়ে পড়তেন। কিন্তু আমরা ঘুমাতাম না। চুপচাপ বিভিন্ন রেডিও শুনতাম। বিবিসি, আকাশবাণীসহ কিছু চ্যানেল। আর ভয়েস অব আমেরিকা শুনতাম না। মাটিতে থাকত রেডিওটা, সবাই নিচু হয়ে আস্তে আস্তে সেসব অনুষ্ঠান শুনতাম। যাতে বাইরের কেউ বুঝতে না পারে, আমরা জেগে আছি। এটা কিন্তু এপ্রিল মাসের কথা। তখন আমাদের কাছাকাছি বয়সের অনেকেই রাতভর লাঠি, বল্লম, টর্চলাইট নিয়ে সারা রাত পাহারা দিতাম। ওই সময় একদিন মাকে বললাম, আমি মুক্তিযুদ্ধে যাব। তারপর এপ্রিল মাসের ২২/২৪ তারিখে আমরা অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে কলকাতা চলে যাই। এক দিন আনন্দবাজার পত্রিকায় একজন মুক্তিযোদ্ধার ছবি দেখলাম। মাকে আবার বললাম, এই ছেলে যদি যেতে পারে, আমি কেন পারব না? এরপর মা রাজি হলেন। বললেন, তাহলে তুমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যাও। আমি তো কিছু চিনি না। মেজো দা প্রবাসী সরকারে তখন চাকরি নিয়েছেন। তিনি একদিন বললেন, বালিগঞ্জে তুই যা। সেখানেই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। এরপর সেখানে যাওয়ার পর শরণার্থী শিল্পীগোষ্ঠীর কথা জানলাম। আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অনেক শিল্পীকে পেলাম।
উম্মুল ওয়ারা সুইটি : বালিগঞ্জে আপনাদের রিহার্সেল হতো, রেকর্ডিং হতো। কিন্তু সম্প্রচার হতো কোত্থেকে?
তিমির নন্দী : রেকর্ডিং হতো ছোট্ট একটা স্টুডিওতে। একটা মাইক্রোফোন। কোনো জানালা ছিল না। কোনো ভেন্টিলেশন, এসি ছিল না। শুধু ছোট্ট একটা ঢোকার দরজা। যন্ত্রসংগীতেও ২-১ জন ছিলেন। অনেক সময় টেবিল চাপড়ে গান করতে হতো। আর সম্প্রচারের কথাটা আমি শুনেছি কামাল লোহানী ভাইয়ের মুখে। বিকেল ৪টার দিকে একটা জিপ আসত। এরপর তারা স্পুলটা নিয়ে যেত। সম্প্রচারটা যে কোত্থেকে হতো, কেউ জানতেন না।
উম্মুল ওয়ারা সুইটি : আপনার কি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গাওয়া প্রথম গানটার কথা মনে আছে?
তিমির নন্দী : (তিমির নন্দী কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করলেন। চোখ খুলে বললেন) নোঙ্গর তুলো তুলো/ সময় যে হলো হলো... । গানটি নঈম গওহরের লেখা আর সমর দার সুর করা। এরপর সমবেত অনেক গান।
দীপংকর দীপক : কী ধরনের গান হতো?
তিমির নন্দী : অনেক ধরনের গান। দেশের গান, পঞ্চকবির গান, আধুনিক গান, কিছু রেকর্ডেড গানসহ অনেক ধরনের। সাবিনা ইয়াসমিনের রেকর্ডেড গান বাজত। অনেক গানের জন্ম হয়েছে সেখানে। গোবিন্দ হালদার তো গানের দুটো ডায়েরি দিয়েছিলেন। একটা দিলেন সমর দাকে, আরেকটা আপেল মাহমুদ ভাইকে। সেখান থেকেই আপেল ভাই করলেন ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ আর সমর দা করলেন ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’। আবার কিছু গান কিন্তু সেখানেই জন্ম হয়েছে। যেমন ‘তীর হারা ঐ ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে’।
তাপস রায়হান : আমরা ১৬ ডিসেম্বরের কথায় চলে আসি। সেই বিজয় দিনের কথা বলুন?
তিমির নন্দী : সকালে আমরা একটা গানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। গানটার কথা মনে নেই। রিহার্সেল চলছিল সেই গানের। দুপুরের দিকে খবর এলো, ঢাকা স্যারেন্ডার করবে। এই খবর শোনা মাত্রই আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম। সে যে কী উত্তেজনা! আর জয় বাংলা সেøাগান। তখন শহীদুল ইসলাম ভাই বললেন এসব গান বাদ। এখন লাগবে বিজয়ের গান। শহীদ ভাই-ই ৪ লাইন লিখলেন ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’। শ্যাম দা সুর করলেন। কিন্তু তখন হারমোনিয়াম পাওয়া যাচ্ছিল না। সব মিলিয়ে মনে হয় ২০ মিনিট লেগেছিল। চার লাইন সুর করে আমাদের হাতে দিলেন। অজিত দা লিড দিলেন। এভাবেই গানটার জন্ম হয়েছিল। এটা হচ্ছে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান। একই সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গান। রেকর্ডিং শেষ করে আমি যখন বাইরে এলাম, আমি তখন থাকি নিউ ব্যারাকপুর, দেখলাম শিয়ালদহ স্টেশনের একটি হোটেলে এই গানটা বাজছে। তখন তো অনেক কিছু জানতাম না। কাকতালীয়ভাবে একটা ঘটনা ঘটেছে। যখন পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করছে, ঠিক তখনই ওই গানটা বাজছে। এটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার। এখন তো সময়টা জানি। আগে জানতাম না।
তাপস রায়হান : দেশে এলেন কবে?
তিমির নন্দী : ১৯৭২ সালে।
দীপংকর দীপক : ঢাকায় আসার পর কেমন পরিবেশ দেখলেন?
তিমির নন্দী : বিধ্বস্ত শহরে বিজয়ের আনন্দ। তখন তো আমি এসএসসি পরীক্ষা দেব। লালমাটিয়ার মেজদার বাসার সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুই নেই। এরপর বাসা ঠিক করার পর দাদা আমাদের আসতে বললেন। নতুন একটি বাসায় উঠলাম। পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হলো। কিন্তু আমার তো তখনো বই নেই। কী পড়ব? তখন আমার এক বন্ধু ছিল কলাবাগানের। আমি জিগাতলা থেকে হেঁটে হেঁটে কলাবাগানে আসতাম। আর ওখানেই পড়তাম। পরীক্ষার পর দেখা গেল আমি পেলাম ফার্স্ট ডিভিশন আর সেই বন্ধুটি পেল থার্ড ডিভিশন। এরপর ভর্তি হলাম মিউজিক কলেজে। তখন মিউজিক কলেজ ছিল সেগুনবাগিচায়।
তাপস রায়হান : বারীণ মজুমদার অধ্যক্ষ ছিলেন?
তিমির নন্দী : হ্যাঁ। আবার অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু তত দিনে রাশিয়ার সঙ্গে একটি শিক্ষা চুক্তি করেছেন। ৭২ সালে প্রথম ব্যাচ গেল। আমি গেলাম ৭৩ সালে মিউজিক অ্যান্ড কোরিওগ্রাফি পড়তে। আমরা তো তখন ‘কোরিওগ্রাফি’ শব্দটা বাংলাদেশে পরিচিত না। যা হোক, দুজন মেয়ে আর আমরা চারজন ছেলে গেলাম। ১০ মাসের কোর্স ছিল। এরপর ১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে এলাম।
উম্মুল ওয়ারা সুইটি : রাশিয়ার পড়াশোনার ব্যাপারটা...?
তিমির নন্দী : মিউজিকের ওপর। অনেকে বলত রাশিয়ান মিউজিক শিখে কী হবে? আসলে রাশিয়ান মিউজিক তো না। মিউজিকের ভাষা হচ্ছে ইতালিয়ান ভাষা। রাশিয়ান বা ইংলিশে সেটাই ফলো করা হয়। সবাই সেখান থেকে অনুবাদ করেছে। তবে কিছু কিছু নোটেশন যোগ করা হয়।
দীপংকর দীপক : আমরা আবার একটু স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রশ্নে আসি। আপনার কি মনে হয় সেই শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে?
তিমির নন্দী : তেমন মনে হয় না। শুধু বিগত সরকার একটা ভাতার ব্যবস্থা করেছিল। তবে তাদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়। আমি বিগত সরকারকে অনেকবার বলার চেষ্টা করেছি পেশাজীবীদের জন্য যদি আলাদা কলোনি থাকতে পারে, তাহলে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের জন্য কেন নয়? কিন্তু আসল জায়গা পর্যন্ত সেটা যায়নি। অথবা কেউ আগ্রহ দেখায়নি।
উম্মুল ওয়ারা সুইটি : শিল্পীদের মধ্যে কেউ কেউ কিন্তু অন্যভাবে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন?
তিমির নন্দী : সেটা আলাদা বিষয়। তবে আপনার সঙ্গে আমি একমত। কিছু কিছু শিল্পী তাদের মনমতো আদায় করে নিয়েছেন। আমরা অনেকেই আছি, যারা আদায় করতে জানি না। এ রকম অনেকেই আছেন, যাদের প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয়, সবাই যদি বলতাম, তাহলে কিছু একটা হতো।
মোহসীনা লাইজু : মস্কোতে আপনি ৭৩ থেকে ৮৩ পর্যন্ত রাশিয়ায় ছিলেন। ১০ বছরই সংগীত নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন?
তিমির নন্দী : প্রথমে জেনারেল সাবজেক্টে পড়াশোনা করে আড়াই বছরের সংগীতের কোর্স করলাম। ৭৭ সালে দেশে এলাম। আবার চলে গেলাম ছয় মাস পর। তখন চলে গেলাম লেনিন গ্রাদে। সেখানে অনেক কিছু করেছি। অনেক ঘটনা। কয়টা বলব?
সাইফ তারিক : ফিরে এসে কোন কাজ শুরু করলেন?
তিমির নন্দী : অনেক জায়গায় গেলাম। কাজ খুঁজছি। ঘুরতে ঘুরতে শিল্পকলা একাডেমিতে গেলাম। তখন আজাদ সাহেব ডিজি। তিনি বললেন, কী চাই? ওই তো এই পর্যন্তই। এরপর টেলিভিশনে স্পেশাল অডিশন নিল। পাস করলাম। রেডিওতে গেলাম। অডিশন দিলাম। ফেল করানো হলো। তারপর শুরু হলো অন্য চাকরি। কিন্তু টেলিভিশনে গাওয়া ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো/ চাঁদ বুঝি তাই জানে।’ গানটা এমন সাড়া পড়েছিল সে সময়! কোনো দোকানে ঢুকতে পারি না। অটোগ্রাফ দিতে দিতে হাতব্যথা হয়ে যায় এ রকম অবস্থা! এরপর ডুয়েট গাইলাম। ‘ময়ূর কণ্ঠী রাতের নীলে’, মৌলিক গান আধুনিক গানসহ অনেক ডুয়েট গান জনপ্রিয় হলো।
এমন সময় তাপস রায়হান তিমির নন্দীকে অনুরোধ করলেন ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো’ গানটি গাইবার জন্য। তিমির নন্দীও গাইলেন।
সাইফ তারিক : আপনি এ পর্যন্ত যাদের গান শিখিয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন, যাদের প্রমিজিং মনে হয়?
তিমির নন্দী : ক্লোজআপ ওয়ান তারকা আতিকের কথা বলতে পারি, ওর ভবিষ্যৎ ভালো। আমার সংগীতের কোনো স্কুল নেই। আমি একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চাকরি করি। নোটেশন লিখে, পিয়ানো বাজিয়ে গ্রিন হেরাল্ড স্কুলে বাচ্চাদের ইংরেজি গান শিখাই। কেজি থেকে ইলেভেন পর্যন্ত সিলেবাস রয়েছে। যেসব গান আমরা শুনিনি, সেসব গান ইংলিশে নোটেশন দেখে দেখে ওদের সিলেবাস করে শেখাই।
উম্মুল ওয়ারা সুইটি : এখানে কত বছর হলো?
তিমির নন্দী : ৩৪ বছর চলছে।
তাপস রায়হান : আমাদের সংগীতের সার্বিক অবস্থা কেমন?
তিমির নন্দী : সংগীতের সূর্য ডুবে গেছে বহু বছর। এ মুহূর্তে এখন আর সংগীত নেই। আছে শুধু যন্ত্র। কোনো গান নেই। সবকিছুই যান্ত্রিক।
সাইফ তারিক : এ রকম কথা কেন বলছেন?
তিমির নন্দী : এখন গান কোথায়? ডুয়েট গান হবে, আপনার কো-আর্টিস্টের সঙ্গে দেখাই হবে না। আপনার ভয়েস দিয়ে চলে যাবেন। কো-আর্টিস্ট সুবিধা মতো আসবেন। এখন সব কম্পিউটারে হচ্ছে। আপনার কণ্ঠ খারাপ হয়েছে? পরশু আসব, না হয় পরদিন এসে রেকর্ড করে যাব। এভাবে কি গান হয়?
তাপস রায়হান : তাহলে ভবিষ্যৎ কী?
তিমির নন্দী : বললামই তো, সংগীতের অস্ত ডুবে গেছে। এখন আর কিছু নেই। এখন ‘আহ’ বললেই হবে। এরপর সফটওয়্যার করে নেবে। সবচেয়ে বড় কথা, মিউজিক শিখতে হলে স্টাফ নোটেশন জানতে হবে।
মোহসীনা লাইজু : প্লেব্যাক আর অভিনয়ের কথা শুনতে চাইছিলাম?
তিমির নন্দী : আমি কখনো প্লেব্যাকে গাই না। এর পেছনে কারণ রয়েছে। এক দিন শহীদ মিনারে গেলাম। এক ভক্ত বলল, দাদা আপনার গান ভালো লাগে। যদি সিনেমায় গান করেন, তাহলে আপনার গান আর শুনব না। আবার আরেকটা ঘটনা আছে। সেটা অনেক বড়। এই কারণে আর কি...! ব্যাটে-বলে হয়নি আর কি! আর অভিনয় এখনো চলছে।
তাপস রায়হান : আপনার পারিবারিক জীবনের কথা?
তিমির নন্দী : আমার একমাত্র মেয়ে। এভাবেই সময় কাটছে সময়ের মতো। হাহাহহাহহাহাহা।
গ্রন্থনা : অনিন্দিতা আচার্য
ছবি : আবুল কালাম আজাদ
লোকেশন : গ্রিন লাউঞ্জ