বাংলাদেশ থেকে কৃষ্ণাঙ্গ ভাড়া করে প্রবাসী স্ত্রী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গৌরব সাঞ্জারি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গৌরব যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট বার্লিন পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও জামিন পাওয়া গৌরবের বিরুদ্ধে নিউ জার্সি সুপরিয়র আদালত থেকে ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আবারও গ্রেপ্তার হওয়া এড়াতে এক বছর আগে বাংলাদেশে পালিয়ে যান তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশে বসেই স্ত্রী ও তার পরিবারকে অব্যাহত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন গৌরব। এছাড়া বাংলাদেশের কিছু টিভি চ্যানেলসহ গণমাধ্যমে তিনি স্ত্রী কনিকা মজুমদার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায় একটি মানবপাচার চক্র। এমনকি দেহ ব্যবসায়ও বাধ্য করা হয় তাকে। একপর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে চক্রটি।
গৌরবের এসব অভিযোগ নিয়ে তার স্ত্রী কনিকা মজুমদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যৌনকর্ম নিষিদ্ধ। এছাড়াও তিনি (গৌরব) যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে কখনো পুলিশের কাছে কিংবা আমাকেও এসব বিষয়ে জানায়নি। তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে যা বলে বেড়াচ্ছেন, তাতে আমি বা আমার পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে, কলঙ্কিত করা হয়েছে। তার এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
কনিকা মজুমদার আরও বলেন, নিউ জার্সির ক্যামডেন সুপরিয়র আদালত থেকে ১৬ নভেম্বর ২০২৩ সালে গৌরবের বিরুদ্ধে ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় (মামলা নম্বর ২২০০৪৪৫৫)। তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে ই-মেইলে কৃষ্ণাঙ্গদের ভাড়া করে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এর ফলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ ডিপার্টমেন্টে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গৌরবের বাড়ি চট্টগ্রামের জুবলি রোডে। তার বাবা শিবু শীল লোহা-লক্কড়ের ব্যবসা করেন। মার্কিন মার্শাল অফিস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে গৌরবকে গ্রেপ্তারের জন্য ‘রেড এলার্ট জারি’ করা হয়েছে। তিনি নিউ জার্সি স্টেটের ক্যামডেন কাউন্টি ফ্যামিলি কোর্টের চূড়ান্ত আদেশের শুনানিতে নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
অভিযোগ উঠেছে, গৌরব প্রতিদিন বিভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে ফোনে কনিকার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং তার বন্ধুদের হুমকি দিচ্ছেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থার নামও ব্যবহার করছেন। কনিকা বলেন, আমার পরিবারকে হেয় করতে গৌরবের বাবা চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি মানবপাচার মামলা করেন। এ মামলার অভিযোগ খুবই হাস্যকর। মামলাটি মানবপাচার আইনে হলেও অভিযোগ করা হয়েছে যৌন নির্যাতনের।
২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর গৌরব-কনিকার বিয়ে হয়। নিয়ম অনুসারে কনিকার স্বামী গৌরব অভিবাসন ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু গ্রিন কার্ড পাবার পর থেকেই সংসারে কলহ শুরু হয়।
২০২২ সালের ২৪ জুলাই কনিকাকে বেদম মারধর করেন গৌরব। গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে রক্ষা করে। এ ঘটনার পর পুলিশ গৌরবকে গ্রেপ্তার করে। দুইদিন পর জামিনে বেরিয়ে তিনি নিউ ইয়র্কে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন।