আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন ব্যারিস্টার খোকন

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বিষয়ে মন্তব্য করায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অনুরোধ জানানো হবে। ব্যারিস্টার খোকন ফোরামের সহসভাপতি।

গতকাল শনিবার দুপুরে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফোরামের এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ফোরামের একজন শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (ব্যারিস্টার খোকন) দলের সমর্থন নিয়ে সভাপতি পদে নির্বাচন করেছেন। দল ও ফোরামের বারণ সত্ত্বেও দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তথাকথিত কিংস পার্টির কয়েকজনের সমর্থন নিয়েছেন। বিষয়টি দলীয়ভাবে বিএনপি ও ফোরাম ভালোভাবে নেয়নি। যে কারণে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে অবহিত করে অনুরোধ জানানো হবে।’ এ বিষয়ে যেকোনো সময় ফোরামের শীর্ষ নেতারা চিঠি দেবেন বলে জানান ওই আইনজীবী নেতা।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নির্বাচনে নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে অংশ নেওয়া ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থনে গঠিত নীল প্যানেলের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন। ওইদিন দায়িত্ব গ্রহণের আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের দক্ষিণ হলে সমমনা আইনজীবীদের সমর্থন পেতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তিনি। তবে এ সভায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবীদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সভায় ব্যারিস্টার খোকন শীর্ষ আইনজীবীদের ইঙ্গিত করে তাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন ফোরামের কয়েকজন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ী করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা (ফোরামের আইনজীবী) গণতন্ত্র ও ভোটের জন্য আন্দোলন করেন। কিন্তু আমার ঘরেই তো সমস্যা।’

গত ৬ ও ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিষয় উল্লেখ করে গত ২৭ মার্চ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী এবং ফোরামের মহাসচিব ও দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ব্যারিস্টার খোকনসহ সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে জয়ী ফোরামের চারজনকে দায়িত্ব গ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের আগে ব্যারিস্টার খোকন অভিযোগ করে বলেন, সরকারপন্থিরা ব্যালট বাক্স অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ফোরামের কতিপয় আইনজীবী নেতা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ী দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা (আইনজীবী নেতারা) গণতন্ত্র ও ভোটের জন্য আন্দোলন করছেন। কিন্তু আমার ঘরের ভেতরেই সমস্যা। কেন তাদের (সরকারপন্থি আইনজীবীদের) ওয়াকওভার চেয়েছিলেন? কারা এটা করল, কারা যোগসাজশ করল, কেন করল সেই মুহূর্তে এটা উচিত হয়েছে কি না, আপনারা (সভায় উপস্থিত আইনজীবীরা) মতামত দেবেন।’