নারী ফুটবলারদের মাসিক বেতন নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হতে যাচ্ছে। বাফুফে সাবিনা খাতুনদের বেতন এখন থেকে ফিফার অনুদান থেকে দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তাতে প্রতিমাসেই বেতন পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে নারী ফুটবলারদের।
২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বেতন বাড়ানোর দাবিতে একবার অনুশীলন বয়কট করেছিলেন ফুটবলাররা। সেই দাবীর মুখে পাঁচ হাজার থেকে মেয়েদের বেতন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উন্নীত করে বাফুফে। গত আগস্ট থেকে ৩১জন মেয়েকে বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসে বাফুফে। বেতন কয়েক গুণ বাড়লেও এতদিন সেটা নিয়মিত পেতেন না ফুটবলাররা। কারণ মাসে ১১ লাখ টাকার কিছু বেশি জোগাতে হিমসিম খেতে হয়েছে বাফুফেকে। তাই বাধ্য হয়েই তারা ফিফার কাছে আবেদন করেন যাতে তাদের অনুদানের টাকা থেকে মেয়েদের বেতনটা নিয়মিত দিতে পারে। এটা করতে গিয়ে ফিফাকে অনেক কিছুই বোঝাতে হয়েছে। কারণ বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ফিফা বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সদস্য দেশগুলোকে। নির্দিষ্ট প্রকল্পের অর্থ অন্য কোন খাতে খরচের সুযোগ নেই। তাই তারা মেয়েদের বিষয়টি ফিফার কাছে জানানোর পর তারা বেশ কিছু তথ্য জানতে চায়। সেগুলো দেওয়ার পর সন্তুষ্ট হয়ে বাফুফেকে তাদের অনুদান থেকে মেয়েদের বেতন দিতে অনুমতি দেয় ফিফা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, 'আমরা ফিফার কাছে আদেন করেছিলাম যাতে মেয়েদের বেতন ফিফার অনুদান থেকে দেওয়া যায়। এ নিয়ে তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল। আমরা এ ব্যাপারে ফিফাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। মেয়েদের বেতন এখন থেকে ফিফার অনুদান থেকে দেওয়া যাবে। যেটা আমরা চলতি মাস থেকে দিতে পারবো।'
ছয় মাসের চুক্তি অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ ১৫ ফুটবলার মাসে পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। ১০ জন পেতেন ৩০ হাজার টাকা করে, ৪ জন ২০ হাজার ও ২ জনের বেতন ছিল ১৮ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে ৩১ ফুটবলারের জন্য বেতনের অঙ্ক ছিল মাসে ১১ লাখ টাকার কিছু বেশি। এই চুক্তি গত মার্চে শেষ হয়েছে। তবে শিঘঘরই নতুন চুক্তি হবে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় পুরানোদের সঙ্গে নতুন কিছু মেয়ের নামও যোগ হবে বলে জানা গেছে।