তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। তার অধীনেই বাংলাদেশ সম্প্রতি এশিয়ান কাপের দু'টি শীর্ষ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে প্রথমবারের মতো। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের নারী ফুটবলের দায়িত্বে থাকা পিটার বাটলার এনে দিয়েছেন অনেক সাফল্য। তারপরও বাটলার জনপ্রিয় হয়ে ওঠেননি সোজা-সাপটা কথা বলার কারণে। অন্যায়, অপ্রাপ্তি নিয়ে প্রায়ই সরব হয়ে ওঠা এই কোচ বড় দুটি অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে একটা লম্বা বিশ্রামে যেতে চাইছেন। যদিও কোচের সে আশা পূরণ হবে কীনা, তা নিয়ে আছে প্রশ্ন। মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতে হবে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের অভিযানের প্রস্তুতি যে নিতে হবে তাকে। তবে তার আগে অপ্রাপ্তিগুলো না ঘুঁচলে দেশে ফিরে যাওয়ার কথাও বলেছেন এ কোচ।
অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে অংশ নিয়ে বুধবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচে হেরে যাওয়ার পরও দলের পারফরম্যান্সে গর্বিত বাটলার। থাইল্যান্ড থেকেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কোচের। ভিয়েতনামের কাছে ১-০ তে হেরে বিদায়ের পর বাটলার বলেন, ‘ওরা (ফুটবলাররা) তাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। এএফসি একেবারেই ভিন্ন মানের—একটা বড় ধাপ উপরে। না পারায় তাই কারও কোন দায় নেই। আমরা শুধু যথেষ্ট ভালো ছিলাম না। তবে আমরা নিজেদের লজ্জায় ফেলিনি। মেয়েদের নিষ্ঠা এবং স্টাফদের নিয়ে আমি গর্বিত। সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। এই যাত্রাটা ছিল ভিন্ন মানের। দুটি ফাইনালে পৌঁছানো ছিল দারুণ অর্জন।‘
বাটলারকে সিনিয়র দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলগুলোর দায়িত্ব পালন করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এটা করে আসছেন বলেই ক্লানি্ত ভর করেছে তার মধ্যে। তাছাড়া অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয় বলে কিছুটা বিরক্ত বাটলার ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে বাংলাদেশের খেলাটা বড্ড কঠিন দাবী করেন, ‘আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি, কিন্তু আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় নেই। আবার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়তো অনেক সময় লেগে যেতে পারে। আমাদের মেয়েরা অবশ্যই ভালো। তবে আমরা খেলেছি ভিয়েতনাম (ফিফা র্যাংকিং ৩৩), থাইল্যান্ড (৫০) ও চীনের (১৭) মত শক্তিশালী দলের সঙ্গে। তারপরও কোনো অজুহাত দিতে চাই না, আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম না। এখন আমার একটু বিশ্রাম দরকার। আমি অনেক বেশি কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, মেয়েদের ফুটবলের কিছুটা উন্নতি করতে পেরেছি। হয়তো এখন আমার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে।' এই পর্যায় থেকে পরের ধাপে যাওয়ার উপায় জানাতে গিয়ে বাটলার বলেন, 'দেখুন, সাফল্য আর শেখা হাতে হাত ধরে চলতে হয়। আমি যে পথচলা ও কোচিং প্রোগ্রাম শুরু করেছি, সেটা চালিয়ে যেতে হবে। তবে সামনে কী হবে আমি নিশ্চিত নই। সমর্থন না পেলে আমাকে হয়তো চলে যেতে হবে।‘
জানতে চাওয়া হয়েছিল পুরুষ জাতীয় দল কিংবা বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের প্রস্তাব পেলে কী করবেন। বাটলার সাফ জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে এরকম কোন কিছুর ব্যাপারে তার আগ্রহ নেই। বরং সব কিছু ঠিকঠাক না হলে দায়িত্ব ছেড়েও দিতে পারেন এই কোচ।
