অভাবের কারণেই কি সন্তানকে গলা টিপে বাবা রশিতে ঝুলেছিলেন?

'পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়া ও ব্যবসায় মন্দা যাওয়ায় আর্থিক অনটনে ছিলাম আমরা। আমার টিউশনির টাকা দিয়ে দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে সংসারের ব্যয় বহন করা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এ কারণে আমার স্বামী হতাশায় ছিলেন। অভাব-অনটনের কারণে হতাশা থেকেই হয়তো ছেলেকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। মেয়েকেও হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।'

বলছিলেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ফ্ল্যাটে ছেলেকে গলা টিপে হত্যার পর আত্মহত্যা করা মশিউর রহমানের স্ত্রী মজিদা খাতুন ডলি।

সাংবাদিকদের ডলি জানান, তার স্বামী আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে শেয়ারবাজারের সেকেন্ডারি লেভেলে ব্যবসা করতেন। তবে সেখান থেকে খুব একটা আয় হতো না। গত এক সপ্তাহ থেকে ওই ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হয়। এছাড়া তার স্বামী পাঁচ–ছয় বছর আগে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে প্রতারিত হন। সেই টাকা তিন–চার বছর ধরে দিচ্ছি দেব বলে ঘোরানো হচ্ছে তাদের। সংসারের খরচ জোগান দিতে তিনি চারটি টিউশনি করেন। 

মজিদা খাতুন ডলি বলেন, টিউশনি থেকে মাসে আয় হয় আট হাজার টাকা। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাসা থেকে টিউশনি করার জন্য বের হই। এ সময় দুই সন্তান ও স্বামী বাসায় ছিলেন। টিউশনি শেষ করে পৌনে ৪টার দিকে বাসায় এসে দেখি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। পরে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাসার নিরাপত্তাকর্মীর সহায়তায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায় না। 

তিনি আরও বলেন,  একপর্যায়ে দরজা ভেঙে দেখি ঘরের এক রুমে মেয়েটা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। আরেক রুমে খাটের ওপরে ছেলে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। ওই রুমের সিলিং ফেনের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে মশিউর। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাবা ও ছেলেকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আর মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে শ্যামলী ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগানস্টিক সেন্টারের নিবির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে আগারগাঁও মোল্লাপাড়া এলাকায় কলেজপড়ুয়া ছেলে মোদাব্বির হোসেন সাদাবকে (১৮) শ্বাসরোধে হত্যার পর মশিউর রহমান ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ সময় মেয়ে সিনথিয়াকেও হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ ঘটনার জন্য ‘কেউ দায়ী নয়’ জানিয়ে মশিউর একটি সুসাইড নোট লিখে গেছেন।

শেরেবাংলা নগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহাদ আলী জানান, তালতলা মোল্লাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে দরজা ভেঙে বাবা-ছেলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় অপরজনের দেহ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মেয়েটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকতেন তারা। তাদের বাড়ি বগুড়া গাবতলী এলাকায়। বর্তমানে লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।