গাজা যুদ্ধ গতকাল রবিবার ছয় মাস পার করেছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুসংখ্যা এরই মধ্যে ৩৩ হাজার পার করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ গাজা থেকে হঠাৎ করে কয়েক হাজার সেনা সরিয়েছে ইসরায়েল। এ অবস্থায় ইসরায়েলের তেলআবিবসহ প্রধান প্রধান শহরে চলছে বিক্ষোভ। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, হামাসের হাতে বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে হাজার হাজার ইসরায়েলি বিক্ষোভ করছে। অন্যদিকে মিসরের কায়রোয় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন একটি আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে ইসরায়েলও।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার বিচার বিভাগের সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করলে সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় ইসরায়েলের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলসহ নাগরিক সমাজ বড়সড় বিক্ষোভ শুরু করে। সাপ্তাহিক নিয়মে চলছিল সেই বিক্ষোভ। এবার তেলআবিবে বিক্ষোভকারীদের ঘোষিত সেই ‘ডেমোক্রেসি স্কয়ার’-এ ইসরায়েলিরা দলে দলে সমবেত হচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুকে সরে গিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি তুলছেন। তারা দাবি তুলছেন নতুন নির্বাচনেরও।
নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের আঁচ লেগেছে দেশের নানা প্রান্তে। কাফর সাবা শহরে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ। সেখান থেকে তার ওয়াশিংটন যাত্রা করার কথা রয়েছে। বিক্ষোভে লাপিদ বলেন, ‘তারা কোনো শিক্ষা নেয়নি, তারা পরিবর্তনও হয়নি। আমরা যতক্ষণ না তাদের বাড়িতে পাঠাচ্ছি, ততক্ষণ তারা এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেবে না।’
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তেলআবিবে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা গাজার খান ইউনিস থেকে ৪৭ বছর বয়সী ইসরায়েলি কৃষক নির ওজ কিব্বুতজের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তাকে ফিলিস্তিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) নামের আরেক সংগঠনের সদস্যরা জিম্মি করে নিয়ে যায় এবং পরে হত্যা করে। গত জানুয়ারিতে তাকে কবর দেয় পিআইজে।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি পিআইজের। কয়েক দফার যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলি শতাধিক জিম্মি মুক্তি পায় হামাসের হাত থেকে। এখনো ১২৯ জনের মতো জিম্মি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েল ছয় মাসের আগ্রাসনে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। গতকাল যুদ্ধের ছয় মাস পূর্তিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগ বলেন, ইসরায়েল রক্তক্ষয়ী ও কঠিন এক যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।
গতকাল গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী হঠাৎ করে গাজার দক্ষিণাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খান ইউনিসের মতো শহরে যেখানে তীব্র লড়াই হয়েছে হামাস ও ইসরায়েলের, সেখান থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এর কারণ এবং এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।
এদিকে মিসরের রাজধানী কায়রোতে নতুন করে একটি যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে ইসরায়েলি প্রতিনিধিও যোগ দেবেন। এই আলোচনায় আরও থাকছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নস ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান বিন জসিম আল থানি। এতে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীরাও রয়েছেন।