নগদ সহায়তার পরিবর্তে গ্যাস বিদ্যুতে ভর্তুকি চায় বিজিএমইএ

পোশাক খাতে আমাদের নগদ সহায়তার প্রয়োজন নেই। বরং নগদ সহায়তার পরিবর্তে গ্যাস বিদ্যুতে ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারদের সংগঠন বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সভাপতি এস এম মান্নান কচি।

গতকাল পোশাক শিল্পে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নিহত শ্রমিকদের ওয়ারিশদের গ্রুপ বীমার চেক হস্তান্তর, গুরুতর অসুস্থদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মরত শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এসব দাবি করা হয়।

কচি বলেন, আমরা জানি আপনি ২০২৬ সালের পর নগদ সহায়তা দিতে পারবেন না। এ শিল্প আমাদের অর্থনীতির মেরুদ-। এগুলো যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, আমরা যদি টিকতে না পারি, তাহলে কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। এ খাতের সঙ্গে রিকশাওয়ালা, চুড়িওয়ালা থেকে শুরু করে শতশত খাত জড়িয়ে আছে।

প্রণোদনা প্রত্যাহারের আগে গ্যাস বিদ্যুতের ভর্তুকির দাবি করে কচি বলেন, আমাদের পাশর্^বর্তী দেশের দিকে তাকিয়ে দেখেন, তারা বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগের ওপর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। তারা গ্যাসের ওপর, বিদ্যুতের ওপর বিভিন্নভাবে ভর্তুকি দিচ্ছে। তাই প্রণোদনা প্রত্যাহারের আগে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর সদস্যদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, মজুরি বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। তারপরও আমরা মজুরি বাড়িয়েছি। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। পোশাকের দরপতন হয়েছে ৬ থেকে ১৮ শতাংশ। এরপর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সুদের হার বেড়েছে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। তাহলে কীভাবে আমরা কারখানা চালাব।

তার মতে, পোশাক খাতে কাজ করছেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। এসব শ্রমিকদের জন্য আগামী বাজেটে রেশনিং সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কচির সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মাহবুব হোসেন, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মেদ হাতেম।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পাঁচ বছর পরপর শ্রমিকদের একটা অসন্তোষ দেখা যায়। এটি এমন এক সময় হয়, যখন সরকারের শেষ সময়। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোরও করার কিছু থাকে না। তাই শ্রমিকদের ওয়েজবোর্ড পাঁচ বছর পরপর হতে পারে। দেশের পোশাক খাতের ৪০ লাখ শ্রমিকদের জন্য আগামী বাজেটে রেশনিংয়ের ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।