আজ সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ খুঁজবে বাংলাদেশ। চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল বুধবার উদযাপিত হবে ঈদ। তবে দেশের কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রমজান পূর্ণ হয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব শুরু হবে বৃহস্পতিবার। এদিকে সৌদি আরবে গতকাল চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে ঈদ উদযাপিত হবে বুধবার।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর বুধবার না বৃহস্পতিবার তা জানতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে সভা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল ফিতর উদযাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোন নম্বর : ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭, ফ্যাক্স নম্বর : ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা হয় হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। শাওয়াল মাস হিজরি বর্ষপঞ্জির দশম মাস। শাওয়ালের প্রথম দিনটি ঈদুল ফিতর হিসেবে উদযাপিত হয়।
চান্দ্র মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিনের হয়। তাই ঈদ কবে হবে, সেটা নিশ্চিত করে জানার জন্য মুসলমানদের ২৯ রমজানের ইফতারের পর অর্থাৎ সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর আগে জানার সুযোগ নেই। কোনো মাসের ২৯তম দিনে যদি চাঁদ দেখা যায় তবে পরদিন থেকে পরবর্তী মাসের গণনা শুরু হবে। চাঁদ না দেখা গেলে মাসটি ৩০ দিনে পূর্ণ হবে।
চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে এক মাস ধরে সিয়াম সাধনার ইতি ঘটবে। শুরু হবে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে উঠবে আনন্দ উৎসবে।
এদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ঈদগাহে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে এ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত। এরপর আরও চারটি জামাত হবে। সেখানে সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এবার ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের মূল প্যান্ডেলে একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া অনেক মুসল্লি মূল প্যান্ডেলের বাইরে ঈদের জামাত আদায় করে থাকেন।
ঈদের নামাজের আগে-পরে মিষ্টিমুখ করার রেওয়াজ আছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ঈদের সকালে খাওয়ার জন্য মামৌল নামে খেজুর দিয়ে একধরনের বিশেষ বিস্কুট বানানো হয়। মুসলিমবিশ্বে ঈদুল ফিতরে মিষ্টি বিতরণ করেন অনেকেই। এজন্য এ ঈদকে ‘মিষ্টি’ ঈদও বলা হয়।
অনেকেই ঈদের দিন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশীর বাসায় যান। ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বিলান। নিজেরাও খান। কুশল বিনিময় করেন। সেলামি দেওয়া-নেওয়ার রেওয়াজ আছে।
ঈদ মানে আনন্দ। আর ঈদে সবচেয়ে বেশি আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। রঙবেরঙের নতুন পোশাক পরে শিশুরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এ বাড়ি-ও বাড়ি যায়।
বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ অনেক দেশে নারীরা ঈদে মেহেদিতে হাত রাঙান। এটা সাধারণত চাঁদরাত অর্থাৎ ঈদের আগের রাতে করা হয়। এজন্য প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের বাড়িতে নারীরা জড়ো হন। গল্প-গুজব, আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি চলে মেহেদি পরা।
ঈদের জামাতের পর কবরস্থানে যাওয়ার রেওয়াজ আছে। প্রিয়জনের কবরে গিয়ে দোয়া করেন স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। শুভেচ্ছা জানাতে দেশে দেশে মুসলমানরা একে অন্যকে ‘ঈদ মোবারক’ বলেন।
ঈদের আনন্দ ও রোশনাইয়ে যখন ঝলমলিয়ে উঠবে পুরো মুসলিমবিশ্ব, তখন ফিলিস্তিনিদের জন্য এবারের ঈদের আনন্দ থাকবে কিছুটা ফিকে। এর কারণ, কয়েক মাস ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা। ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
যুদ্ধে গাজায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন তাঁবুতে। খাবার নেই। পানির জন্য হাহাকার। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন অনেকে। ধ্বংস হয়েছে বাড়িঘর। এর ওপর রয়েছে যেকোনো সময় হামলার শঙ্কা। প্রাণ হারানোর ভয়। এমনই ভীতিকর পরিবেশে কয়েক বছর ধরে ঈদ এসেছে গাজায়। তাই আনন্দটাও হবে অনেক ফিকে। এর আগের বছরগুলোতে ঈদের দিন সকালেও সেখানে বোমা হামলা অব্যাহত ছিল। ঈদের দিনে অনেক ফিলিস্তিনির ঘুম ভাঙে বোমার শব্দে।