ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংস

এ গ্রুপের তৃতীয় সেরা হিসেবে ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল রহমতগঞ্জ। তবে পুরনো ঢাকার দলটি সেমিফাইনালের টিকিট পেতে কোন অঘটনের জন্ম দিতে পারেনি। শক্তিশালী বসুন্ধরা কিংস তাদের বিপক্ষে পেয়েছে অনুমিত জয়। গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে ২-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে চারবারের লিগজয়ীরা। এর ফলে এই মৌসুমে ট্রেবল জয়ের লক্ষ্যে আরেকটা সফল পদক্ষেপ রাখলো মৌসুম সূচনার স্বাধীনতা কাপ জয়ী কিংস।

দ্বিতীয় দল হিসেবে ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখালো বসুন্ধরা কিংস। এর আগে ২ এপ্রিল প্রথম কোয়ার্টারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ২-১ গোলে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে হারিয়েছিল। ট্রেবল জয়ের দারুণ সুযোগ কিংসের সামনে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১১তম রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে শীর্ষে। তাদের নিকটে থাকা মোহামেডানের সংগ্রহ ২৩।

অর্থাৎ বড় কোন অঘটন না ঘটলে টানা পঞ্চম লিগ জয়ের রেকর্ড গড়ার খুব কাছে তারা। এবার ফেডারেশন কাপেও স্বদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তৃতীয়বারের মতো ফেড কাপ জিততে তাদের প্রয়োজন দুই জয়। লিগ আর ফেডারেশন কাপ ঘরে তুললে ২০১২-১৩ মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের মতো কিংসও মাতবে ট্রেবল জয়ের আনন্দে।

বৈশাখের প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যে গোপালগঞ্জে বেলা ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচ কোন দলের জন্যই সহজ ছিলো না। রেফারি বাধ্য হয়ে দুই অর্ধ্বে দিয়েছেন কুলিং ব্রেক। এর মধ্যেও কিংস সহজাত আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলেছে। এদিন অবশ্য তারা ব্রাজিলিয়ান মিগেল ফিগেইরাকে বিশ্রামে রেখে মাঠে নেমেছিল। তার জায়গায় আক্রমণভাগে রবসন রবিনহো ও ডরিয়েলটন গোমেজকে আক্রমণভাগে সঙ্গ দেন এমফন উদোহ। এই নাইজেরিয়ান পুরো ম্যাচেই ভালো খেলেছেন।

তবে কিংসকে প্রথম এগিয়ে দিয়েছিলেন মিডফিল্ডার সিনিয়র সোহেল রানা। ২৪ মিনিটে রবসন রবিনহোকে বল ঠেলেছিলেন তিনি। বক্সের ওপরে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার বেশ কিছুক্ষণ তিন ডিফেন্ডারকে নিয়ে খেললেন। এরপর আড়াআড়ি পাস দিলেন বক্সের ওপর আনমার্কড সোহেলকে। চলতি বলে বাঁ পায়ে প্লেসিংয়ে বলটা পোস্টের ডান দিকে দিয়ে জালে জড়ান জাতীয় দলের অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।

ম্যাচের ৪০ মিনিটে ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন এমফন উদোহ। রবিনহোর ব্যাক হিলে বল পেয়ে বক্সের বাঁ দিক থেকে শট নিয়েছিলেন। তবে রহমতগঞ্জ কিপার শেষ মুহূর্তে গ্লাভস ছুঁয়ে গোল হতে দেননি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রহমতগঞ্জের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড দাওদা সিসে বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে ভলি করলে কিংস কিপার মেহেদী হাসান শ্রাবন দারুণভাবে রুখে দেন।

বিরতি শেষে মাঠে ফিরেই গোল পেতে পারতো রহমতগঞ্জ। ৪৮ মিনিটে ডান দিক থেকে উজবেক ডিফেন্ডার ইস্কান্দার সিদ্দিকের ক্রস দূরের পোস্টে পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে ব্যর্থ হন দাওদা সিসে। সেরা সুযোগ হাতছাড়া করেন রহমতগঞ্জ অধিনায়ক। ৬২ মিনিটে ব্যবাধন বাড়ান এমফন উদোহ। রবিনহোর বাড়ানো পাস লুফতে ছুটে এসেছিলেন রহমতগঞ্জ কিপার মামুন আলিফ। তবে তার আগেই বক্সের ওপর থেকে আলতো চিপে বল পোস্টে জমা করেন উদোহ।

এরপর আর সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন রহমতগঞ্জ। শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে স্যামুয়েল কোনিকে হতাশ করেন শ্রাবন। দাওদার চিপ পেয়ে বক্সে ঢুকে শ্রাবনকে একা পেয়ে শট নিয়েছিলেন ঘানাইয়ান কোনি। তবে শ্রাবনের শরীরে বাধা পায় সেই প্রচেষ্টা। তাতে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রহমতগঞ্জকে।