উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত বিএনপির

আগামী ৮ মে থেকে শুরু হওয়া সব ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দলটি তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এর আগে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সভায় নেতাদের আলোচনার বিষয়টি উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার সাজানো নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের প্রকাশ্য একপেশে ভূমিকার জন্য এর আগে ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। এখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘এই সরকার ভোট, সংবিধান, ভিন্নমত প্রকাশ, বহুদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনসহ মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে নির্দয় দমনের কশাঘাতে বিপর্যস্ত করেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির একমাত্র ভিত্তি হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা। তাই সহিংস সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এই অবৈধ সরকারের অপরাজনীতি ও নির্বাচনী প্রহসনের অংশীদার না হওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি আগামী ৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া সব ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের নানাভাবে হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এতে বলা হয়েছে, ‘মনোনয়নপত্র তোলা ও জমা দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা ও শারীরিক আক্রমণসহ পথে পথে বাধা দেওয়া হয়। অনেককেই মনোনয়নপত্র জমা দিতেও দেওয়া হয়নি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ কখনোই রপ্ত করেনি।’

বিএনপি বলছে, অগণতান্ত্রিক শক্তি কখনো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মিত্র হতে পারে না। দলটি মনে করে, আওয়ামী লীগ সরকার ‘ভোটারবিহীন’ ৭ জানুয়ারির ‘ডামি নির্বাচনের’ সব আয়োজন সম্পন্ন করার পরও আশঙ্কামুক্ত হতে পারেনি। তাই নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদেরও নির্বাচন ‘পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেওয়া’, ইন্টারনেটের ‘গতি শ্লথ’ করা, নাগরিকদের ‘নজরদারি নস্যাৎ’ ইত্যাদি নজিরবিহীন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ‘বিনাশী পদক্ষেপ’ গ্রহণ করে। এর আগেও জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির।

এদিকে আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় বান্দরবান জেলায় কেএনএফের (কুকি-চিন) হামলায় ব্যাংক ও অস্ত্র লুট এবং পার্বত্য এলাকায় বিরাট অংশে স্বায়ত্তশাসনের দাবি নিয়ে আলোচনা করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারা মনে করেন, অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ইসরায়েল থেকে ঢাকায় বিমান অবতরণ রহস্যময়তার সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।