সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এক স্বেচ্ছাসেবী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা মুন্সিগঞ্জের সুন্দরবন উপকূলের জেলেপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ওই যুবকের নাম প্রদীপ কুমার মন্ডল (২৫)। তিনি স্থানীয় জেলে পাড়ার বাসুদেব মন্ডলেরর ছেলে। প্রদীপ উপকূলীয় এলাকার সকল দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবী কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিও’র ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন।
পরিবার জানিয়েছে, প্রদীপ আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যটাস দিয়েছেন। যেখানে মৃত্যুর জন্য তার প্রেমিকাকে দায়ী করেছেন। স্ট্যাটাসের সঙ্গে এক তরুণীর সঙ্গে ভিডিও কলের স্ক্রিনশর্ট যুক্ত করেছেন প্রদীপ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে তার মৃত্যুর জন্য প্রেমিকা এবং তার পরিবারকে দায়ী করেন প্রদীপ। স্ট্যাটাসে প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলের কিছু মুহূর্ত ও ছবিও পোস্ট করেন তিনি। তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।
আত্মহত্যার আগে প্রদীপ তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘বিদায় পাখি, তুমি যে এই ভাবে আমার সাথে বেঈমানি করবে আমি কখনো বুঝিনি। আর কখনোই তোমাকে বিরক্ত করব না। আমাকে যে ভাবে ঠকালে এইভাবে অন্য কোনো মায়ের কোল খালি করো না প্লিজ। ভালো থেকো পাখি, আবার যে নতুন মানুষটার সাথে কথা বলছো তাকে যেনো কাঁদিও না। তোমার দেওয়া জামা, প্যান্ট, জুতা সব সাথে নিয়ে মরলাম। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র তুমি এবং তোমার পরিবার দায়ী।’
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নিপা চক্রবর্তী বলেন, প্রদীপের বংশীপুরের একটা মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার ওপরে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে।