আনোয়ারায় চার মাসে ১১ মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় হঠাৎ আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। উপজেলায় গত চার মাসে শিশুসহ ১১ নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এর মধ্যে অভিমানে প্রেমিক ও কিশোরী,হতাশায় যুবক,যৌতুক ও পরকীয়ায় একাধিক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

আত্মহত্যা কমাতে নিজ সন্তানদের প্রতি কাউন্সেলিংয়ে অভিভাবকদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত চার মাসে উপজেলায় ১১ জন আত্মহত্যা করেছেন। সর্বশেষ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে উপজেলা সদরের ঘনপুকুরপাড় এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জিকু সর্দার (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার বিলপুর হাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এর আগের দিন শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বটতলী ইউনিয়নের পূর্ব বরৈয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে উম্মে হাবিবা (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার সায়েদ ইমরানের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই রাতে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের খোর্দ গহিরা এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন শাহাবুদ্দিন (৩৫)। ১৯ জুন উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর গ্রামের খাদিজা সুলতানা কাশপি (১৪) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে  রেখে পালিয়ে যান স্বামী। ২২ মে উপজেলার সৈয়দকুচিয়া গ্রামে প্রেমিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রেমিক সাহাব উদ্দিন (২৫)। ১১ মে সকালে উপজেলার পূর্ব বরৈয়া গ্রামের হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। ১৫ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে লিলি আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ৭ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন গ্রামে নুরতাজ আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী অভিমান করে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ২৯ মার্চ উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ স্বামীর বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে জিন্নাত আরা বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। গত ১৭ মার্চ উপজেলার বৈরাগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবাসিক থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমি আক্তার (২৮) ও তার দেড় বয়সী মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী। তাদের অনেকের মৃত্যুর পেছনে অন্যের প্ররোচনার অভিযোগও আছে। কিন্তু বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে পার পেয়ে যাচ্ছেন অপরাধীরা। আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ পরামর্শ সেবা দান, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন ইসলাম বলেন,মানসিক, পারিবারিক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং,সিদ্ধান্তহীনতাসহ বিভিন্ন অপরাধ সইতে না পারার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ প্রবণতা কমাতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন,প্রতিনিয়ত বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। যৌতুক,পরকীয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা,সামাজিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হলেই কেবল আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত