হাইকোর্টের রায়

‘কৃষিজমি সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নে সংসদকে পরামর্শ

বাংলাদেশের কৃষিজমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড় ইত্যাদি সুরক্ষার জন্য ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬-এর খসড়াকে দ্রুত আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দ্বীপ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনে ‘দ্বীপ উন্নয়ন আইন’ দ্রুত প্রণয়নে তাগিদ দিয়েছে হাইকোর্ট।

নওগাঁর মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির পুকুর খনন বন্ধে স্থানীয় ভূমি অফিসের নোটিস চ্যালেঞ্জ করে রিট মামলার রায়ে উচ্চ আদালত এ পরামর্শ দিয়েছে।

আদালত বলেছে, ফসলি জমিতে পুকুর খননের বিধিনিষেধ আরোপ করে ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হলেও কোনো এক অজানা কারণে এটি এখনো আলোর মুখ দেখছে না। ‘মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অমান্য করে পুকুর খনন করেছেন এমন অভিযোগে মিজানুর রহমানকে খনন বন্ধ করতে নোটিস দেয় সেখানকার ভূমি অফিস। পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন মিজানুর রহমান।

রায়ে মিজানুর রহমানকে দেওয়া নোটিসের আইনগত বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুল চূড়ান্ত উল্লেখ করে নোটিস বাতিল করে দিয়েছে আদালত। ২০২২ সালের ২ জুন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। গত মঙ্গলবার ১৫ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ের অনুলিপি জাতীয় সংসদের সব সদস্য, সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ই-মেইলে পাঠাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সংবিধানের ৪২(১) অনুচ্ছেদের মর্মার্থ উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, ‘এটি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর এবং যেকোনোভাবে এর বিলিব্যবস্থা তথা শ্রেণি পরিবর্তন সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। কোনোভাবেই উক্ত মৌলিক অধিকারে বাধা প্রদান করা যাবে না। নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর এবং যেকোনোভাবে এর বিলি-ব্যবস্থা তথা শ্রেণি পরিবর্তন, এর অধিকারে পরিবর্তন, বিধিনিষেধ এবং যেকোনো প্রকারের নিয়ন্ত্রণ কেবলমাত্র সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে করতে হবে।’

রায়ে ভারত, জাপান ও ফিনল্যান্ডে দ্বীপের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন যতটুকু সম্ভব অনুসরণ ও সমন্বয় করে বাংলাদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি ‘দ্বীপ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের নিমিত্তে দ্বীপ উন্নয়ন আইন দ্রুত প্রণয়নে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।