মন্দিরে আগুনের অভিযোগে হামলা, নিহত ২

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামে একটি কালি মন্দিরে হামলার অভিযোগে সাত নির্মাণ শ্রমিকের উপর হামলা চালানো হয়। এতে দুই শ্রমিক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুড়া জেলার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে চার প্লাটুন বিজিবি টহলে থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চপল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক। স্কুলের পাশের একটি কালি মন্দিরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আগুন দেবার অভিযোগে স্কুলে থাকা নির্মাণ শ্রমিকদের উপর স্থানীয় কয়েকশ বিক্ষুদ্ধ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

আহত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে শ্রমিক আরশাদুল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ভাই আশরাফুল মারা যায়। নিহত দুই ভাইয়ের বাড়ি মধুখালীর নওপাড়া ইউনিয়নের চোপের ঘাট এলাকায়। আহত পাঁচ শ্রমিকরে মধ্যে দুইজনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপর তিনজনকে মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার পর পঞ্চপল্লী গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ ‍শুক্রবার সকাল থেকে চার প্লাটুন বিজিবি টহলে থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার কিছু সময় পর ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কালি মন্দিরের মহিলা সেবাইত তপতি মন্ডল জানান, সন্ধ্যায় কালি মন্দিরে আলো জ্বালিয়ে বাড়ি চলে যায়। বাড়ি যাবার সময় তিনি দেখেন মন্দিরের পাশে অবস্থিত পঞ্চপল্লী স্কুলের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি করছে। পরে তিনি শুনতে পান মন্দিরে আগুন লেগেছে। এসময় আমি দ্রুত এসে কালি মায়ের শরীরে থাকা কাপড়ের আগুন নেভাই। পরে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়।

পুলিশ সুপার মো. মোর্শেদ আরম জানান, কারি মন্দিরে আগুন দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগে স্কুলের নির্মাণ কাজে থাকা শ্রমিকদের উপর হামলা চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু গ্রামবাসী পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ফরিদপুর, মাগুড়া, রাজবাড়ী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব পাঠানো হয়। পুলিশ বেশকিছু ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয় সেজন্য ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার জানান, হামলার ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ-র‌্যাব পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চার প্লাটুন বিজিবি তলব করা হয়েছে। সকাল থেকেই তারা ঘটনাস্থলসহ ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ন স্থানে টহল দেবে। এখন পরিস্থি শান্ত রয়েছে।