মালয়েশিয়ায় শোষিত বাংলাদেশি শ্রমিকরা : জাতিসংঘ

মালয়েশিয়ায় শোষণের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। আর এ অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় উদ্যোগ নিতে বলে গতকাল শুক্রবার জেনেভা থেকে একটি বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।

এমন সময়ে জাতিসংঘের তরফ থেকে এ আহ্বান জানানো হলো, যখন আগের দিন বৃহস্পতিবারই দেশটিতে এক নারীসহ ৪৫ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে নামে দেশটির একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কাজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। এসব খবরে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষজ্ঞরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

গতকালের বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কয়েক মাস ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি শ্রমিকরা খুব খারাপ অবস্থায় আছেন। তাদের শোষণ, অবিচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে রক্ষা করার পদক্ষেপ নিতে হবে। বেশিরভাগ অভিবাসী মালয়েশিয়ায় পৌঁছে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ পান না। এমন অবস্থায় ভিসা শেষ করতে বাধ্য হন তারা। ফলে গ্রেপ্তার, আটক, দুর্ব্যবহার ও নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়েন অভিবাসীরা।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় ও বাংলাদেশের অপরাধ নেটওয়ার্কগুলোর বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কারণ এসব চক্রের বিরুদ্ধে অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতারণামূলক নিয়োগের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, এসব চক্রের সঙ্গে দুই দেশের সরকারের কিছু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জড়িত। এটি ঠিক না। এটি বন্ধ হওয়া দরকার। এ অপরাধীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, মালয়েশিয়াকে অবশ্যই পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রম অভিবাসন পরিচালনা করতে হবে। এ ছাড়া অভিবাসী কর্মীদের রক্ষা করতে জাতিসংঘের নির্দেশিকা নীতির অধীনে চলতে হবে। মালয়েশিয়াকে শোষণের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং সহায়তা করতে হবে। ব্যক্তি পাচারের বিরুদ্ধে আইন কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতাকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর আগেও মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।