দুবাইয়ে বৃষ্টিপাতের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব

রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে মরু শহর দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল-ঘেঁষা শহরটিতে নজিরবিহীন এই বৃষ্টি ও বন্যার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নাতিশীতোষ্ণ কোনো এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে যেখানে কোনো কথা উঠত না সেখানে দুবাইয়ের অতিরিক্ত বৃষ্টি নিয়ে ইতিমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে নানা তত্ত্বও। চব্বিশ ঘণ্টার বৃষ্টিতে সৃষ্ট এই বন্যার পর ‘ক্লাইড সিডিং’ বা প্রযুক্তির সাহায্যে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানো সম্পর্কে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ধরন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ অধ্যাপক মার্টেন অ্যাম্বাউম। দুবাইয়ের এই বৃষ্টিপাত নিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর এই অংশটি দীর্ঘসময় ধরে বৃষ্টিহীন থাকে, এটির বৈশিষ্ট্যই এমন। তবে এখানে অনিয়মিত ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তারপরও এটি একটি খুব বিরল বৃষ্টিপাতের ঘটনা ছিল। আর সে কারণেই ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টির তত্ত্ব হাজির হয়েছে।

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাউড সিডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত বিমানগুলো মঙ্গলবার নয়, রবিবার এবং সোমবার মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে কখন ক্লাউড সিডিং করা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি খুব বেশি হলে ঝড়ের ওপর সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে এবং বন্যার জন্য ক্লাউড সিডিংয়ের ওপর আলোকপাত করাটা ‘বিভ্রান্তিকর’।

বিবিসি ওয়েদার-এর আবহাওয়াবিদ ম্যাট টেইলরও বলেন যে, দুবাইয়ের চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার আগে কম্পিউটার মডেলগুলো খুব ভালোভাবেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক বছরের সমান বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ম্যাট টেইলর বলেন, আমি যদি শুধুমাত্র ক্লাউড সিডিং থেকে বৃষ্টির কথা হিসাব করি, তাহলে দেখা যাচ্ছে যে বন্যার প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। বাহরাইন থেকে ওমান, এই বিশাল এলাকায় মারাত্মক বন্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ, ক্লাউড সিডিং সংযুক্ত আরব আমিরাতে করা হলেও (যদি) স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা শুধুমাত্র ওই দেশটিতে হয়নি।