একের পর এক মানুষকে কোপাচ্ছেন আ.লীগ নেতা

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় কয়েক দিনের ব্যবধানে সাংবাদিক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ভাই এবং জমি দখল করতে গিয়ে নিরীহ এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। পৃথক তিন ঘটনায় গত দুদিনে আওয়ামী লীগ সভাপতি আওরঙ্গজেব, তার তিন ভাইসহ পরিবারের ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া থানায় তিনটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আওরঙ্গজেবের কোপের শিকার হন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার কুতুবদিয়া প্রতিনিধি মিজানুর রহমান (৩৬)। এদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিজানসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আওরঙ্গজেব মাতবরের নেতৃত্বে তার ভাই, ভাতিজাসহ পরিবারের অন্তত ৮-১০ জন লোক মিজানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় মিজান মামলা করেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা আ.লীগের সভাপতির নেতৃত্বে একটি অসহায় পরিবারের জায়গা দখলের একটি ভিডিও আমার ফেসবুকে আপলোড করায় আমার ওপর হামলা হয়।’ 

এদিকে ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার মলমচর গ্রামের আবুল মনছুর আনিস নামের যুবককে প্রকাশ্যে দলবল নিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে আওরঙ্গজেব মাতবর ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে আওরঙ্গজেব মাতবর বলেন, ওই জমি আমার ক্রয় করা। তাদের কাছে কোনো কাগজ নেই। আনিস ছেলেটাকে বৈঠকে বসতে ইতিমধ্যে কয়েক দফা অনুরোধ করলেও সে বৈঠকে বসে না। বৈঠকে না বসে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করায় বাধা দিলে তারা আমার ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

অপরদিকে, কয়েক দিন আগে কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আওরঙ্গজেব মাতবরের লোকজন। এ ঘটনায় আহতের বড় ভাই ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল বাদী হয়ে ১৯ এপ্রিল আওরঙ্গজেব মাতবরের ভাই ও ভাতিজাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। কুতুবদিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার পরিবারের ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রেকর্ড হয়েছে থানায়। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।