উপজেলা নির্বাচন

প্রার্থীর পক্ষে না থাকায় রাস্তায় দেয়াল তুললেন আ. লীগ নেতা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় রাস্তায় ইটের দেয়াল তুলে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়ন আওয়া লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম দেওয়ান রাস্তা বন্ধ করে দেয়ালটি নির্মাণ করছেন। তিনি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ শিকদারের পক্ষের লোক।

মাটির ওই রাস্তাটি উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ের তিন নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ান কান্দি এলাকায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৫ বছর আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য ২০০ ফুট দৈর্ঘ এবং ৬ ফুট চওড়া মাটির সড়কটি নির্মাণ হয়। স্থানীয়রা ৯৪ হাজার টাকা চাঁদা তুলে রাস্তাটি সংস্কার করেন। সম্প্রতি রাস্তাটির মাঝ বরাবর ইটের দেয়াল তুলে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম দেওয়ান।

ওই গ্রামের হোসেন মৃধা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলায় নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শিকদার একজন প্রার্থী। রশিদ শিকদার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটসহ বিভিন্ন কারণে বির্তকিত। সেলিম দেওয়ানও বালু লুটের সঙ্গে জড়িত। রশিদ শিকদারের পক্ষে কাজ করছেন সেলিম দেওয়ান। আমাদেরও রশিদ শিকদারের পক্ষে কাজ করতে বলেন। আমরা কাজ করবো না বলায়, সেলিম দেওয়ান রাস্তার ওই খাস জায়গাকে নিজের জায়গা দাবি করে ইটের দেয়াল তুলে আটকে দিয়েছেন। আমরা ইউপি চেয়ারম্যান, থানা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। তারা রাস্তা খোলা রাখতে বললেও সেলিম দেওয়ান প্রভাব খাটিয়ে সেটি বন্ধ করে দিচ্ছেন।

রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরবন্দি হয়েছেন শিউলি বেগম। শিউলি বেগম বলেন, ১২-১৫ বছর আগে সেলিম দেওয়ান আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাটির রাস্তা করে দিয়েছিলেন। এখন তিনি আবার আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দিচ্ছেন। নির্বাচনে মানুষের পছন্দ-অপছন্দের প্রার্থী থাকতেই পারে। এজন্য কি রাস্তা বন্ধ করতে হবে?

ছবি : দেশ রূপান্তর

শনিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির মাঝ বরাবর ইটের গাঁথুনি দিয়ে দেয়াল করা হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক দেয়াল নির্মাণের কাজ করছেন। দেয়ালের পাশে ৮-১০ জন স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ার পেতে বসে কাজের তদারকি করছিলেন। সে সময় তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এ দেয়ালটি সেলিম দেওয়ান করাচ্ছেন।

তবে নির্বাচনে প্রার্থী পক্ষে না থাকায় দেয়াল করা হচ্ছে এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করছেন সেলিম দেওয়ান। তিনি রাস্তার ওই জায়গাটি তার দাবি করেন।

সেলিম দেওয়ান বলেন, আমার জায়গায় আমি দেয়াল দিচ্ছি। কোন রাস্তায় দেয়াল দেইনি।

যেখানে দেয়াল দেওয়া হচ্ছে সে জায়গাটি খাস, মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে আপনি যাতায়াতের রাস্তা করে দিয়েছিলেন, তাহলে এখন এটি আপনার জায়গা হলো কী করে? জানতে চাইল সেলিম দেওয়ান বলেন, ক্রয় সূত্রে মালিক হয়েছি। দুই রেকর্ড আমাদের পক্ষে, একটি নিয়ে সরকারের সঙ্গে মামলা চলছে।

হলদিয়া ইউনিয়ের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি আমার ইউপি সদস্যদের পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। সেলিম দেওয়ান কথা শোনেননি। স্থানীয়দের সম্মিলিতভাবে করা রাস্তাটিতে দেওয়াল দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, মানুষ যে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে এটি সরকারি জায়গায় অথবা কারো ব্যক্তিগত জায়গার উপরই হোক না কেন কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না। রাস্তা বন্ধের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।