মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়েছে গত বছর সেপ্টেম্বরে। এতে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসেছেন মোহাম্মদ মুইজ্জু, যিনি এরই মধ্যে চীনপন্থি একজন নেতা হিসেবে নিজের পরিচিতি আরও শক্ত করেছেন। তার নির্দেশে দেশ থেকে ভারতীয় সেনাদের একটি অংশ এরই মধ্যে চলে গেছে। এর মধ্যে গতকাল রবিবার দেশটির আইনসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়, যা মুইজ্জুর আগামী দিনের শাসনের জন্য বড়ই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ভারতপন্থি রাজনীতিকদের প্রাধান্য ছিল। সর্বশেষ নির্বাচনে ভারতপন্থি নেতা বলে পরিচিত মোহাম্মদ সোলিহকে হারিয়ে মোহাম্মদ মুইজ্জু ক্ষমতায় আসেন। বর্তমানে দেশটির রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে চীনপন্থি এবং ভারতপন্থিদের মধ্যে বিরোধ চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, আইনসভা নির্বাচনের ফলের ওপর দুই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে। অর্থাৎ মুইজ্জুর ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতির পরিহারের কারণে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলের ওপর।
সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতের প্রভাব শেষ করার প্রচার চালান মুইজ্জু। এবার আইনসভা নির্বাচনের প্রচারে সেই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি তার দল ‘পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস (পিএনসি)’-এর পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন প্রত্যাশা করছেন, যাতে তিনি তার নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন। অন্যদিকে মুইজ্জুর প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো ক্ষমতাসীনদের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতা করেই প্রচার চালিয়েছে। তারা মুইজ্জুর সরকারকে যাতে জবাবদিহি করা যায়, তার জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন প্রত্যাশা করছেন।
৯৩ আসনবিশিষ্ট মালদ্বীপের আইনসভায় পাঁচ বছরের জন্য সদস্যরা নির্বাচিত হন। এবার নির্বাচনে মোট ২৮ লাখ ৪০ হাজারের মতো ভোটার। নির্বাচনে পিএনসি দলের বাইরে বিরোধী দল ও স্বাধীন প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৩৬৮ জনের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটগ্রহণ শেষে দেখা গেছে, নির্বাচনে বিকেল পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭২.৯৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে ভোট পড়েছিল ৭৬.২৭ শতাংশ।