বিআরটিএর হিসাবে ১৭ দিনে সড়কে নিহত ৩২০

ঈদযাত্রার ১৭ দিনে (৪ থেকে ২০ এপ্রিল) ২৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৬২ জন।  অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে একটি যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা উপহার দেওয়া সম্ভব হলেও দুটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা এ সফলতা কিছুটা ম্লান করেছে।

যদিও গত শনিবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দাবি করেন, এ বছর ঈদে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ জন।

এদিকে বিআরটিএ জানিয়েছে, গত বছর ঈদুল ফিতরের ১৫ দিনে (১৫ থেকে ২৯ এপ্রিল) মোট ২৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জন নিহত ও ৫১০ জন আহত হয়। অর্থাৎ গড়ে প্রতি দিন প্রায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়।

বিআরটিএ তাদের পর্যালোচনায় বলছে, গত বছরের তুলনায় এবারে ঈদ-উল-ফিতরে গড় দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। তবে গড় নিহতের সংখ্যা প্রায় তিনজন বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবারে নিহতের গড় সংখ্যা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যকে অগ্রহণযোগ্য দাবি করেছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। তিনি আরও বলেন, সড়কে যে আইন আছে সেটি না মানলে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটবেই। তাই আমাদের সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনা কমবে।

এদিকে বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় এবং ঝালকাঠি জেলার গাবখান সেতুর টোলপ্লাজায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা দুটি জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, এআরআই ও বিআরটিএর সমন্বয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক কর্র্তৃক গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে।

যৌথ তদন্ত শেষে সংস্থাটি জানায়, উক্ত দুটি দুর্ঘটনা কবলিত মোটরযানগুলোর কাগজপত্র মেয়াদউত্তীর্ণ ছিল। ফলে তাদের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।