বেনজীরের অবৈধ সম্পদ

অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন ব্যারিস্টার সুমনের

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল রবিবার দুপুরে তিনি দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন করেন।

আবেদন শেষে ব্যারিস্টার সুমন সাংবাদিকদের বলেছেন, একজন আইজিপির ৩৪ বছরে যে বেতন হয় তা হলো ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বেনজিরের বিরুদ্ধে পত্রিকায় যে রিপোর্ট আসছে তা প্রায় শত শত কোটি টাকার, যেগুলো কাগজের হিসাবে আসছে। এই হিসাবের বাইরে যে কী আছে সেটি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। আমার কাছে মনে হয়েছে এ অভিযোগের সঠিক অনুসন্ধান হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধান না দেখে দুদকে এসে নাগরিক হিসেবে আবেদন করেছি। দুদক যদি মনে করে আবেদন আমলে নেবে না তাহলে পরবর্তী সময়ে যেসব ব্যবস্থা নিতে হয়, তা আমি করব।

লিখিত আবেদনের সঙ্গে সম্প্রতি বেনজীরকে নিয়ে দেশের একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করেন। আবেদনে বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যের বরাত দিয়ে সুমনের লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের ৩০তম আইজি ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু চাকরিতে থাকাকালে তার স্ত্রী ও মেয়েদের নামে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে, যে সম্পদগুলো তার আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের চেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে পদ-পদবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। ফলে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদের তদন্তে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি। দুদক পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে যাবেন বলে জানান ব্যারিস্টার সুমন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, আবেদনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তার এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তার আইন ও বিধি অনুসারে যাচাই-বাছাই করবে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, উনার এত সম্পদ থাকায় মনে করেছিলাম আমার দুদকে আসা লাগবে না। দুদক নিজে থেকেই কিছু করবে। কিন্তু দুদক কিছুই করল না। দুদক যদি কিছু না করে তাহলে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে দুদককে বলা আপনি একটু নড়েচড়ে বসেন। আমরা বলছি না যে উনি দুর্নীতি করেছেন। আমরা বলছি যে অভিযোগটা এসেছে, সেটি অনুসন্ধান করে জাতির সামনে পরিষ্কার করা হোক।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার মিশন হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আমি এমপি হিসেবে এই প্রথম দুদকে এসেছি। এর আগে ব্যারিস্টার হিসেবে আবেদন করেছি। অন্য কেউ দুর্নীতি বিষয়ে কথা বলুক বা না বলুক, আমার যদি শক্তি থাকে সাহস থাকে তাহলে আমি প্রতিবাদ করে যাব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদ তো এ অভিযোগের বিচার করবে না, তদন্ত করবে না। সংসদ হচ্ছে আইন প্রণয়নের জায়গা। তারপরও সুযোগ পেলে সংসদে বিষয়টি বলবই।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমার কাছে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে একজন আইজিপির যদি এত সম্পদ থাকে, অনেক সৎ পুলিশ অফিসার আছেন, তারা এই নিউজটা পাওয়ার পর তাদের সততা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে। আর তারাও হয়তো একটা প্রতিযোগিতায় নেমে যাবেন। একজন এসপি বলবেন, আইজিপির যদি ১৪০০ বিঘা থাকে, আমার তো কিছু সম্পদ থাকতে হবে, ডিআইজিও এ রকম বলবেন, থানার ওসিও বলবেন। তখন তাদের মধ্যে একটি অনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে।