ম্যানইউকে জিতিয়েও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে টেন হাগ

দ্বিতীয় সারির দল কভেন্ট্রিকে হারাতে গিয়ে চোখের জল আর নাকের জল এক হয়ে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এফএ কাপের সেমিফাইনালে কাল ৭০ মিনিট অবধি এগিয়ে থাকলেও চোখের পলকেই সমতা হয়ে যায়। শেষে টাইব্রেকারে গিয়ে রক্ষা হয় রেড ডেভিলদের। এমন জয়কে ভরাডুবি উল্লেখ জেমি ক্যারাঘার জানিয়েছেন, ওল্ড ট্রাফোর্ডে এরিক টেন হাগ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।

ইউনাইটেড ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, তবে শেষ ২০ মিনিটে তিন গোল হজম করে তারা। তাতে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও সুরাহা না হওয়াতে টাইব্রেকারে গিয়ে জয় তুলে নিতে হয়। সেখানেও কাসেমিরো মিস করেছিলেন প্রথম পেনাল্টি শটটি। তবে বাকিগুলোতে গোল আদায় ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা।

ওয়েম্বলিতে এমন বিপর্যয়ের পরে টেন হাগ স্বীকার করেছেন যে ইউনাইটেডে তার ‘সময় ফুরিয়ে এসেছে’। আর লিভারপুল ও ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার মনে করেন এই গ্রীষ্মের পরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার চাকরি ধরে রাখা কঠিন হবে।

কভেন্ট্রি ম্যানেজার মার্ক রবিনস কীভাবে ১৯৯০ সালে এফএ কাপে একটি গোল দিয়ে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ইউনাইটেডের চাকরি বাঁচিয়েছিলেন, তার প্রতি ইঙ্গিত করে ক্যারাঘার স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘আমরা সেখানে শেষ দিকে দেখছিলাম এবং মার্ক রবিনস বিখ্যাতভাবে ম্যান ইউনাইটেডের ম্যানেজারকে চাকরিতে রেখেছিলেন, আমি মনে করি আজকের (গতকালের) ফলাফলটি ম্যানইউ ম্যানেজারের চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে যথেষ্ঠ। আমি দেখতে চাই না সে কীভাবে থাকে, যদিও আমি মনে করি না সে থাকবে বলে।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘আমি মনে করি, ড্রেসিংরুম সম্ভবত সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছে। কারণ তারা মনে করতেই পারে তারা বড় ম্যাচ জিতেছে। দ্বিতীয় সারির দল হলেও জয়টা কষ্ঠার্জিত ম্যানইউয়ের। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে আপনি যখন ড্রেসিংরুমে যাবেন তখন তারা সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে বসে আছে, তারা উদযাপন করবে কিনা তা জানে না, এটি কি বড় বিষয় যে আপনি একটি কাপ ফাইনালে আছেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছেন? তারা সম্ভবত সবাই সেখানে বসে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি রয় কিনও তার সাবেক দলের সমালোচনা করে আইটিভি স্পোর্টকে বলেন, ‘তারা মুহূর্তে খেলে, তারা সবসময় আপনাকে সুযোগ দেয়। চলতি মৌসুমে এফএ কাপে উইগান ও নিউপোর্ট কাউন্টির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আমরা তা দেখেছি। আমি প্রায় প্রতি ম্যাচে তাদের কিছু বাজে অভ্যাস দেখছি। গোলরক্ষক ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সময় নষ্ট করছেন। খেলায় নামুন এবং আপনার শরীরের আড়মোরা ভাঙুন। তারা আজ রাতে কাপ ফাইনালে ওঠার উদযাপন করবে কিন্তু এটা ম্যানেজারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।’