আমাদের দেশে গ্লুুকোমায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশে মোট জনসংখ্যার ১.৮ থেকে ২.২ শতাংশ লোক গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মানুষের মধ্যে ২.৮ শতাংশেরই গ্লুকোমা রোগ রয়েছে। গ্লুকোমা হলে চোখের প্রেশার বেড়ে চোখের ভেতরের অপটিক নার্ভের ক্ষতি হয়। সাধারণত পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের গ্লুকোমা বেশি হয়।
লক্ষণ
গ্লুকোমার তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। একবার দৃষ্টিসীমা কিছুটা নষ্ট হলে সেটুকু আর ফিরেও পাওয়া যায় না। গ্লুকোমা সাধারণত চোখের প্রেশারজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। সঠিক কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জানা যায়নি, তবে চোখের অন্তর্গত উচ্চচাপ (আইওপি) প্রধানতম ঝুঁকি। এ রোগের পেছনে অন্য যেসব ঝুঁকি আছে, তা হলো বংশগত ইতিহাস (মা-বাবা, ভাই-বোন এ রোগে আক্রান্ত হলে তাদের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আশঙ্কা থাকে), ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রিফ্র্যাক্টিভ এরর (মাইনাস বা প্লাস পাওয়ার), মাইগ্রেন, চোখের আঘাত, চোখের অন্যান্য ইনফ্লামেটরি রোগ এবং চিকিৎসকের উপদেশ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড জাতীয় চোখের ড্রপের অতিরিক্ত ব্যবহার।
গ্লুকোমার ফলে
গ্লুকোমা সব সমস্যার সম্মিলিত একটি চোখের রোগ। যার কারণগুলো জানা জরুরি
চোখের লাল ভাব ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তন
দৃষ্টিতে রঙধনুর অবয়ব অনুভূত হওয়া ক্ষেত্রবিশেষে চোখে সময় সময় ঝাপসা দেখা শারীরিক সমস্যার মধ্যে প্রচ- মাথাব্যথা
বমি বমি ভাব পড়ালেখার কাজে অবসাদ দেখা দেয়।
স্ক্রিনিং কীভাবে করা যায়?
গ্লুকোমা স্ক্রিনিং কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে করা যায় এবং এসব পরীক্ষার সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে গ্লুকোমা রোগ নির্ণয় করা হয়।
রোগ নির্ণয়
সর্বপ্রথম বিষয় চোখের প্রেসার মাপা। এ ছাড়া কয়েকটি বিশেষ পরীক্ষা, যেমন ভিজ্যুয়াল ফিল্ড অ্যানালিসিস, কর্নিয়ার সেন্ট্রাল থিকনেস মেজারমেন্ট, ওসিটি’র পর (ও নির্ণয়ের আগে) আরএনএফএল ও অপটিক নার্ভ হেড থিকনেস নির্ণয়, যা দ্বারা অপটিক নার্ভ হেডের বর্তমান অবস্থা ও নার্ভ ফাইবার লেয়ারের বর্তমান অবস্থা নির্ণয় করা যায়। এতে রোগের মাত্রা বোঝা সম্ভব।
চিকিৎসা
কয়েকটি পর্যায়ে সাধারণত গ্লুকোমার চিকিৎসা করা হয়। চোখের বিভিন্ন ড্রপ, লেজার ও গ্লুকোমা সার্জারি।
প্রথম ধাপে ড্রপের মাধ্যমে চোখের প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ড্রপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়ে গেলে শুধু নিয়মিত ফলোআপে থাকলে সাধারণত সার্জারি বা লেজারের প্রয়োজন পড়ে না। ড্রপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না হলে পরবর্তী সময়ে সার্জারির প্রয়োজন হয়। গ্লুকোমা রোগের সব ধরনের প্রচলিত চিকিৎসা আমাদের দেশেই সম্ভব এবং সুলভ।