ভারতের নির্বাচন শুরুর আগে ও পরে হিন্দুত্ববাদের আবেগ উসকে দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এখন মুসলমানদের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে তুমুল সমালোচিত হচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচনী জনসভায় অমিত শাহ বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীসহ সংখ্যালঘু যারা নির্যাতিত হয়ে ভারতে আসবে, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া তিনি আরও একবার বাংলাদেশ থেকে মুসলিমদের অনুপ্রবেশের ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ অভিযোগ তুলেছেন।
ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের প্রচার করতে দফায় দফায় পশ্চিমবঙ্গ আসছেন বিজেপির শীর্ষনেতারা। প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ব্যাপক মাত্রায় সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আওয়াজ তুলছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের করণদীঘি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা করেন অমিত শাহ। রায়গঞ্জ লোকসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী কার্তিক চন্দ্র পালের সমর্থনে প্রচারসভা করেন তিনি। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে এখানে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর করা প্রয়োজন। এ বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে পারে একমাত্র বিজেপি।’
বিজেপি অনুপ্রবেশকারী বলতে মুসলিমদের নির্দেশ করে থাকে। বিজেপি নেতাদের অনেকে প্রায়ই বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।
সিএএ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন অমিত শাহ। ওই জনসভায় অমিত শাহ আরও বলেন, ‘সিএএ কার্যকর হবে। সিএএ ও এনআরসি বন্ধ করতে পারবে না মমতাদি। বাংলাদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতের আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে চাইছেন না। হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে চাইছেন না। আমি কথা দিচ্ছি, সব হিন্দু শরণার্থী নাগরিকত্ব পাবে।’