বাসচাপায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন সহপাঠীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে চুয়েটের সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা। এর আগে, সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ও বুধবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ৪ দিন ধরে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার চুয়েট কর্তৃপক্ষ, বাস মালিক সমিতি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময়সভা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সভায় ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের পাশাপাশি এধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধ এখনো চলমান। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে, ব্যারিকেড দিয়ে ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে গতকাল বুধবার বিক্ষোভের একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে দপ্তরের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য জামাল উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার শেখ মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক রেজাউল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষক ভবনের নিচে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। আশা করি একটি সমাধান আসবে।’
এর আগে, গত সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার জিয়ানগরে বাসের ধাক্কায় মারা যান চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা এবং একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক হোসাইন। এ ছাড়া আহত হন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া।