মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ছড়া দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলীনগরের ইউপি সদস্য হায়দর আলীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় জালালিয়া নামক স্থানে বালিয়া ছড়ায় এ ঘর নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে গত ২ এপ্রিল সরেজমিনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘর নির্মাণে বাধা দিয়ে অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু ইউপি সদস্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের চেয়ে ইউপি সদস্যের ক্ষমতা কি বেশি?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হায়দর আলী তার সহযোগী আরেকজনকে নিয়ে স্থানীয় জালালিয়া মৌজার জেল নম্বর ৭ এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি খাস খতিয়ানের বালিয়াছড়া দখল করে চলতি মাসে পাকা স্থাপনা (দোকানঘর) নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পাকঘর নির্মাণের বিষয়টি এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনারকে জানালে তিনি সরেজমিনে গিয়ে গত ২ এপ্রিল ঘর নির্মাণ বন্ধ রাখেন এবং দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন ওই ইউপি সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, ‘রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইউপি সদস্য হায়দর আলী ও তার এক সহযোগী সড়ক ও জনপথের জায়গাসহ খাস খতিয়ানের ছড়াটি জায়গা দখল করেছেন। এসিল্যান্ড নির্দেশ দেয়ার পরও পাকঘর নির্মাণ করায় আমরা এলাকাবাসী হতাশ।’
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য হায়দর আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গোবিন্দপুর গ্রামের রব মিয়া ও রইছ মিয়া ছড়া দখল করে ঘর নির্মাণ করেছেন। আমি আগে তাদের সাথে ছিলাম, পরে বাদ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রইছ আল রেজুয়ান বলেন, ‘আগের নির্দেশনা মানা হয়নি। গত বুধবার ম্যাপ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে নির্মিত দোকানঘরটি সম্পূর্ণ সরকারি ছড়াতেই। ঘরের ভিতরের কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ ঘরটি ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’