চলতি মাসের শুরু থেকে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গায়। এর মধ্যে ১২ দিন ধরে তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে জেলাটির ওপর দিয়ে। দুদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চুয়াডাঙ্গায় এমন পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাপমাত্রার হিসাবে ১ থেকে ৫ এপ্রিল টানা পাঁচ দিন চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ ছিল। ৬ এপ্রিল এক লাফে ২ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়ে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ জেলায় তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জামিনুর রহমান বলেন, এ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপ অনুভব হয়। এর বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে তাপপ্রবাহ চলছে। ওখানে যখন তাপমাত্রা বেশি থাকে, এখানেও বেশি থাকে। এর কারণ ভৌগোলিকভাবে চুয়াডাঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালম মল্লিক বলেন, ‘পশ্চিম দিক থেকে উত্তপ্ত লু হাওয়া (শুকনো গরম হাওয়া) বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গাও অন্যতম প্রবেশপথ। লু হাওয়া ও অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি এই দুইয়ের যুগপৎ সংমিশ্রণে আমাদের চুয়াডাঙ্গাসহ ওই অঞ্চল এপ্রিল মাসে উত্তপ্ত থাকে। একই অবস্থা থাকে মে মাসেও। এমনকি গ্রীষ্মকাল জুড়ে এ এলাকা উত্তপ্ত থাকে।’
তিনি বলেন, এ সময় এ অঞ্চলে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে গরম বেশি অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশের ৪২ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আর মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, ফেনী, বান্দরবানসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাকি অংশে। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে।
টানা অন্তত দুদিন তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে তা তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, সিলেট, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে চলমান তাপপ্রবাহ এ মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক দিন তাপপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হবে। মে মাসের ২ তারিখের দিকে বৃষ্টি হতে পারে। এটা কয়েক দিন থাকার সম্ভাবনা আছে, তখন তাপমাত্রা কমবে।
এদিকে আগামী তিন দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী গতকাল শনিবার হিট স্ট্রোকে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে হিট স্ট্রোকে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের মুন্সীরহাট এলাকায় দুপুরে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মী সাখাওয়াত হোসেন মুকুল (২৭) মারা যান। তিনি কোম্পানির মাঠপর্যায়ে বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সাখাওয়াত হোসেন মুকুলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায়।
কোম্পানির শহরের বিক্রয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ রোকন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌরসভার মুন্সীরহাটে কাজে যান মাঠকর্মী মুকুল। এ সময় হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিক তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফেরদৌস হাসান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে পথেই তার মৃত্যু হয়েছে। হিট স্ট্রোকের আলামত রয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুরে চড়কপূজা উদযাপনের সময় সঞ্জয় ঘোষ ওরফে সঞ্জিত (৪৭) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পরে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলী স্কুলমাঠে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সঞ্জয় ঘোষ সিধুলী গ্রামের ঘোষপাড়া মহল্লার সর্গীয় সদুর্শন ঘোষের ছেলে।