কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

বহিরাগতদের নিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা উপাচার্যের!

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মী, চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মামলার আসামি বহিরাগতদের নিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার দুপুরে ওই হামলার ঘটনার পর উপাচার্যের অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কুবি শিক্ষক সমিতি।

জানা গেছে, শিক্ষক সমিতির দাবি না মানায় গত ২৫ এপ্রিল উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের দপ্তরে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষক সমিতি। এরপর গত শনিবার ট্রেজারারকে অবরুদ্ধ করে তার গাড়ি আটকে দেয় শিক্ষক সমিতি। পরে গতকাল দুপুর ১টায় প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী, সহকারী প্রক্টর আবু ওবাইদা রাহিদ, জাহিদ হাসান ও মোশাররফ হোসেন এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ড. রশিদুল ইসলাম শেখের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মী ও চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, ট্রেজারার, প্রক্টরের দপ্তরে লাগানো তালা ভেঙে ফেলেন। এ সময় তারা উপাচার্য ও ট্রেজারারকে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষকরা বাধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

দেশ রূপান্তরের হাতে আসা হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কিল, ঘুসি, লাথি ও ধাক্কা দিয়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় শিক্ষকদের উদ্দেশে তারা ‘জয় বাংলা’ এবং ‘শিবিরের গালে গালে, জুতা মার তালে তালে’, ‘শিবিরের চামড়া তুলে নিব আমরা’ এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

ভিডিও ফুটেজে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মোর্শেদ রায়হানকে কনুই দিয়ে ধাক্কা এবং মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে ধাক্কা দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোকাদ্দেস-উল-ইসলামকে ঘুসি দিতে দেখা যায় প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীকে।

হামলার সময় চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুর বিশ্বাস ও পার্থ সরকারকে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসকে ধাক্কা দিতে দেখা যায়। পরে সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমিনুর বিশ্বাসকে নিবৃত্ত করে নিয়ে যান।

তার আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো শামিমুল ইসলাম চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লব দাস ও আমিনুর রহমান বিশ্বাস ধাক্কা দিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুর ও রকিবুল হাসান রকি গিয়ে শিক্ষক লাউঞ্জ বন্ধ করে দেন। এ ছাড়া সাবেক শিক্ষার্থী পার্থ সরকার, বিপ্লব দাসসহ আরও অনেককে শিক্ষকদের কিল, ঘুসি ও লাথি দিতে দেখা যায়। হামলায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো আবু তাহের, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস এবং মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আহত হন। হামলায় আহত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসার জন্য গেলে সেখানে চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দফায় আবারও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালান।

শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি প্রতিবারই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই। তাদের (শিক্ষক সমিতির) দাবিগুলো অযৌক্তিক। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা করছে। আমি তাদের সব সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি।’