বান্দরবানের রুমায় সেনাবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ের নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার দুর্গম বাকলাইপাড়া এলাকা থেকে কেএনএফের ওই দুই সদস্যের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। এর আগে রুমার রেমাক্রীপ্রাংসা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাকলাইপাড়া এলাকায় থানচি-লিক্রি সড়কের পাশের জঙ্গলে গুলিবিদ্ধ দুই মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানিয়েছিল এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শনিবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত বাকলাইপাড়া এলাকায় প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। পরে গতকাল সকালে জুমে কাজ করতে যাওয়ার সময় জঙ্গলের ভেতরে দুটি গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকার বাসিন্দারা। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের খবর দিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
থানচি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন জানান, বাকলাইপাড়া এলাকা রুমা উপজেলার অধীন। কিন্তু থানচি থেকে কাছে হওয়ায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করতে থানচি থানাকে বলা হয়। পরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। গত ২ এপ্রিল রুমার সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে অর্থ লুট করে একদল অস্ত্রধারী। পুলিশের ১০টি এবং আনসার সদস্যের ৪টি অস্ত্রও লুট করে নিয়ে যায় তারা। অপহরণ করা হয় ব্যাংকটির ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে। তবে দুদিন পর রুমার একটা পাহাড়ি এলাকা থেকে ছাড়া পান তিনি।
রুমার ঘটনার ১৭ ঘণ্টা পর থানচি উপজেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট করে অস্ত্রধারীরা। দুটি ঘটনায় পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ’ জড়িত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর থেকে লুট হওয়া অস্ত্র অর্থ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুমা ও থানচিতে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের যৌথবাহিনী। এ পর্যন্ত যৌথ অভিযানে কেএনএফের ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।