ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সাতৈর ইউনিয়নের মহিশালায় হিরু মুনশির মালিকানাধীন ‘ব্যাটারি প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি’ নামের একটি কারখানা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে কারখানাটির বিরুদ্ধে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছেন। কারখানাটিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুবার দুই লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। যথাযথভাবে পুরাতন ব্যাটারি না ভাঙায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ কারখানাটিকে বন্ধ রাখতে নির্দেশনাও দিয়েছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই কারখানাটির কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু চারদিকে ফসলি জমি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কৃষকদের কৃষিপণ্য উৎপাদনের কথা চিন্তা না করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি অনাপত্তিপত্র দেন। ওই অনাপত্তিপত্রকে পুঁজি করে ব্যাটারি প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির মালিক হিরু মুনশি তার কারখানায় পুরনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা আলাদা করছেন। এতে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, সেই সঙ্গে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। এ ছাড়া ব্যাটারির অ্যাসিড বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আশপাশের ফসলের এবং মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করা হচ্ছে।
এদিকে, যে অনাপত্তিপত্রকে পুঁজি করে ব্যাটারি প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেই অনাপত্তিপত্রে ‘ব্যবসার ধরন’ ঘরটি ফাঁকা রয়েছে। কী ধরনের ব্যবসার জন্য ওই অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে তার কোনো উল্লেখ নেই। এ ছাড়া ওই অনাপত্তিপত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনো অবৈধ কর্মকান্ড দ্বারা কোনোভাবেই পরিবেশদূষণ করা যাবে না; সব বর্জ্য পরিকল্পিত উপায়ে সংগ্রহ করে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে; পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতিরেকে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না; কোনোপ্রকার দূষণের অভিযোগ সৃষ্টি হলে অনাপত্তিপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে ইত্যাদি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উল্লিখিত ওইসব শর্তের কোনোটিই সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। এ ছাড়া পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্রও নেই। অথচ অদৃশ্য ক্ষমতাবলে কারখানাটির মালিক হিরু মুনশি ওই ব্যাটারি প্রসেসিং কারখানাটি চালিয়েই যাচ্ছেন।
হিরু মুনশিকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরে কাগজপত্র সাবমিট করেছি। এখন মাঝেমধ্যে কারখানাটি চালাই, মাঝেমধ্যে বন্ধ রাখি।’
এ ব্যাপারে সাতৈর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ‘হিরু মুনশির কারখানার কারণে পাঁচ গ্রামের কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষকরা প্রায়ই আমাকে সিসা কারখানাটি বন্ধ করার জন্য বলেন। কারখানাটি বন্ধ করা হোক।’
জানতে চাইলে সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাফিউল আলম বলেন, ‘আমি তাকে ইন্ডাস্ট্রি করার অনাপত্তিপত্র দিয়েছি। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি হয় কি না এটা দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে হিরু মুনশির সঙ্গে আমার দেখা হলে তাকে বলেছি পরিবেশ বা ফসলের ক্ষতি হয় এমন কোনো কারখানা চালানো যাবে না।’
কারখানাটি কীভাবে চলছে জানতে ফরিদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইদ আনোয়ারকে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।