চারপাশে প্রচণ্ড তাপমাত্রা। কাঠফাটা রোদ্রে খুব একটা বের হচ্ছে না নগরবাসী। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) রেকর্ড করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় আজ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অতি তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকছে বেশ কয়েকদিন ধরে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দূরের ট্রিপ রিকশাচালকরা নিতে পারছে না। সামান্য দূরুত্বের যাত্রী বহন করেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে তারা। এরই মাঝে কয়েকজন রিকশাচালক অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে গণমাধ্যমে। আবার অনেকে অসুস্থ হয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছে না রিকশা নিয়ে।
শরীয়তপুরের বাসিন্দা হাফেজ বয়াতী নামের এক রিকশাচালকের সাথে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। রিকশা চালনা পল্টনে। তিনি বলেন, চারপাশে প্রচন্ড গরম। রিকশা নিয়ে বসে থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রীর দেখা পাওয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় রোদ্রে অলস সময় পার করতে হচ্ছে। আর তীব্র তাপদাহে অল্প দূরুত্বের যাত্রী টানতেই কষ্ট হয়ে যায়। দূরের যাত্রী আগের মতো নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, আগে দিন শেষে গ্যারেজে ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া যেত। সেই টাকা থেকে পরিবারের জন্য কিছু পাঠাতে পারতাম। কিন্তু এখন রোডের খরচ দিয়ে ২০০ টাকা নিয়ে গ্যারেজে ফিরতে হয়। নিজেই চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারছি না। এই গরমে আমাদের মতো রিকশাচালকদের মানবেতর জীবনযাপন পার করছে। একদিকে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি, অন্যদিকে যাত্রী সংকটে অর্ধেকের বেশি আয় কমে যাওয়ায় মুসিবতে পড়েছি। আমাদের এই কষ্টগুলো যেন কেউ দেখার নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই চালক।
এদিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ‘হিট এক্সরশন’ এর ঝুঁকি দিনের তিন ঘণ্টায় বেশি থাকে। দিনের এই সময়ে গরম বেশি অনুভূত হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।