নাহিদুল ইসলামকে সঙ্গী করে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যের কুড়ি রানের মধ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন আবাহনীকে। ঠিক তখন ৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে নাহিদুলকে আউট করেন পেসার শফিকুল ইসলাম। ৬ বলের মধ্যে তানজিম সাকিবকে বোল্ড করে রিপন মন্ডল জমিয়ে তোলেন ম্যাচ।
সমীকরণ দাড়ায় শফিকুলের শেষ ওভার থেকে ৯ রান চাই আবাহনীর। কিন্তু দু রান করে চার বলে ৮ রান তুলে স্কোর সমান করেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন আবাহনীকে। সেই সঙ্গে লিস্ট 'এ' মর্যাদা লাভের পর পঞ্চম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয় আকাশী-নীল জার্সিধারীদের। ১৪ ম্যাচের সবগুলোতে জিতে ২৮ পয়েন্ট আবাহনীর। বাকি দুই ম্যাচ হারলেও খুব কাছের মোহামেডান তাদেরকে ধরতে পারবে না।
বিকেএসপিতে শেখ জামালের ২৬৭ রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ওভারে ওপেনার সাব্বির (৬) আর ১৬তম ওভারে নাঈম শেখ (২১)কে হারায় আবাহনী। এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন ধ্রব শতাধিক রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান জয়ের পথে। সাইফ হাসান বিজয়কে এলবিডাব্লিউ করে ভাঙেন জুটি। ৮০ বলে ৬৭ রান করেন বিজায় চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায়। আফিফ যখন সেঞ্চুরির করবেন মনে হচ্ছিল, তখন তাইবুর রহমানের বলে ইয়াসির চৌধুরীর বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ৮৮ রানের ইনিংসে ৮ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৮৩ রান করেন এই বাহাতি।
তার আউটের সময় ২৯ রানে থাকা মোসাদ্দেক হাফসেঞ্চুরি করে ম্যাচ জিতিয়েছেন। তার ৫৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি ছক্কা।
সকালে টস জিতে শেখ জামালকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। এরপর সৈকত আলী, সাকিব আল হাসান আর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান চল্লিশোর্ধ ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে নিলেও ১৮৫ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে শেখ জামাল। ওই অবস্থা থেকে জিয়াউর রহমান ৫৮ বলে ৮৫ রানের ইনিংস দিয়ে শেখ জামালকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরে যান। তবে সেই স্কোরও ভঙ্গুর আবাহনী টপকে গিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শেখ জামাল ধানমন্ডি: ৫০ ওভারে ২৬৭/৯ (জিয়া ৮৫, সাকিব ৪৯, নুরুল ৪১, সৈকত ৪১; রাকিবুল ৩/২৯, তানজিম ৩/৬২, নাহিদুল ২/৩১)।
আবাহনী: ৪৯.৫ ওভারে ২৭৬/৬ (আফিফ ৮৩, এনামুল ৬৭, মোসাদ্দেক ৫৩*; শফিকুল ২/৬০)।
ফল: আবাহনী ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোসাদ্দেক হোসেন।