ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রান পাহাড় টপকানোর এক চরম উত্তেজনাকর ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিংকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্লাব। মোহামেডানের দেওয়া ৩০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় বড়ো অবধান ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপুর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তবে শেষ দিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারির ৩৭ রানের ক্যামিওতেই জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডান ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৩ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। দলের মোহাম্মদ নাঈম শেখ মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন। এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ৫২ এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব অপরাজিত ৪৯ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে বল হাতে ৩০ রানে ৪টি উইকেট নেন মোহাম্মদ আবু হাশিম।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রাইমকে শক্ত ভিত গড়ে দেন ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু। তিনি ১২৩ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১১৮ রানের এক অনবদ্য শতক হাঁকান। মাঝে আরিফুল ইসলাম (৩১) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৩৬) ভালো অবদান রাখলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক সময় বেশ চাপে পড়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। অধিনায়ক আকবর আলীও ৩০ বলে ৪০ রান করে বিদায় নেন।
সেখান থেকেই শামীম পাটোয়ারি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে মাত্র ২১ বলে ১টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে খেলেন অপরাজিত ৩৭* রানের এক টর্নেডো ইনিংস। ৪৭ ও ৪৮তম ওভারে সাইফউদ্দিন পরপর আবু হায়দার রনি (১৪) ও আবু হাশিমকে (০) আউট করে মোহামেডানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করলেও শামীম পাটোয়ারির ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ৫ বল বাকি থাকতেই ৩০৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে প্রাইম ব্যাংক।
পাচ খেলার পাচটিতেই জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে প্রাইম ব্যাংক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৩০৩/৬ (৫০.০ ওভার, নাঈম শেখ ৯৯, পারভেজ ইমন ৫২, আফিফ হোসেন ৪৯* * আবু হাশিম ৪/৩০, আলিস আল ইসলাম ১/৪২, শামীম মিয়া ১/২২)।
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৩০৭/৭ (৪৯.১ ওভার, শাহাদাত দিপু ১১৮, আকবর আলী ৪০, শামীম পাটোয়ারি ৩৭*, মাহমুদউল্লাহ ৩৬, সাইফউদ্দিন ৪/৫০, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ২/৭২, নাঈম আহমেদ ১/৫৭)
ফলাফল: প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৩ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : শাহাদাত দিপু
টানা তৃতীয় জয় আবাহনীর
বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ৪ উইকেট হারালেও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের ৮১ ও নাহিদুলের ৬৩ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ২০৯ রান তোলে বসুন্ধরা। আবাহনীর বর্ষণ নেন ৪ উইকেট। জবাবে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া আবাহনীকে টেনে তোলেন মোসাদ্দেক সৈকত (৫৭) ও সাব্বির রহমান। সাব্বিরের অপরাজিত ৫০ রানের লড়াকু ইনিংসে জয় পায় আবাহনী।
মিঠুনের সেঞ্চুরিতে লেপার্ডসের জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ১২০ রানে হারিয়েছে ঢাকা লেপার্ডস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ৮৬ বলে ৮টি ছক্কায় ১১২ রানের ঝড়ো সেঞ্চুরি এবং ইফতেখার (৫১) ও মঈনের (৬৯) ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩৫১ রানের পাহাড় গড়ে লেপার্ডস। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে গোলাম কিবরিয়ার ৪৬ বলে ৫১ রানের ইনিংসের পরও ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাত্র ২৩১ রানে অলআউট হয়ে বড় ব্যবধানে ম্যাচটি হারে।
এবার সেঞ্চুরি করলেন শিবলি
লিগের প্রথম দিনই ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। অপরাজিত রয়ে গিয়েছিলেন ৯৯ রানে। অবশেষে সেই আশিকুর রহমান শিবলী সেঞ্চুরি পেলেন পঞ্চম ম্যাচে এসে। তার কীর্তিময় ইনিংসেগুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শিবলির ১৩০ বলে ১১৯ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং রবিউলের ৬৫ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ৩৫৪ রান তোলে রূপগঞ্জ। ৩৫৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাসুম আহমেদের ৪ উইকেটের বিধ্বংসী স্পিন ঘূর্ণিতে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব মাত্র ১৪৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
লেজের ব্যাটারদের নিয়ে লড়াই করে লিটনের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি; বাংলাদেশ ২৭৮