মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের দেওয়া একটি প্রস্তাবের ওপর যুদ্ধবিরতির আলোচনায় যোগ দেয় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাস নেতৃত্ব কী ধরনের জবাব দেয়, তা সামনে আসার আগেই গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে ইসরায়েলের সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে সমঝোতার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন মধ্যপ্রাচ্য সফরে যুদ্ধবিরতির ওপর দিয়ে যাচ্ছেন; যার অংশ হিসেবে তিনি সৌদি আরব সফর শেষ করে জর্ডান ও ইসরায়েলের গেছেন। গাজায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির পর ইসরায়েলের তরফ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির পাশাপাশি হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়ার পারস্পরিক শর্ত রয়েছে। তবে এর বাইরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার রয়েছে, যেগুলোর কারণে যুদ্ধবিরতির আলোচনা সামনে এগোতে পারছে না। নতুন প্রস্তাবে হামাস তার হাতে থাকা কয়েক ডজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল তার কারাগার থেকে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এর বাইরে হামাস পরিপূর্ণ ও স্থায়ীভাবে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার চায়। মূলত ধীরে জিম্মিদের মুক্তির শর্তে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে, যা হামাসের কথার মূল সুর। কিন্তু ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করা নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির অঙ্গীকার করেছে। আলোচনার সঙ্গে জড়িতদের সূত্র উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, দুপক্ষের মতভিন্নতা এখন সেনা প্রত্যাহার করা না করাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এর মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলে লিকুদ পার্টির সরকারের অংশীদার কট্টর জায়নবাদী নেতৃত্ব যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির আলোচনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হামাসের সঙ্গে সমঝোতা হলে তারা সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, কায়রোতে কোনো কর্মকর্তাকে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য পাঠাবে না তেল আবিব। আর তাদের পাঠানোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে হামাসকে। এ অবস্থায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল বলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি হোক বা না হোক, ইসরায়েল গাজার রাফাহ শহরে অভিযানের সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা রাফাহ শহরে প্রবেশ করব।’
উল্লেখ্য, ইসরায়েল মনে করে, গাজা উপত্যকা জুড়ে হামাসের শক্তি নিঃশেষ করে দিতে পেরেছে তারা, এখন রাফাহ শহরে হামাসের দুর্গ গুঁড়িয়ে দিতে পারলেই তেল আবিবের সামরিক অভিযান সফল হবে। কিন্তু এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলছে, গাজার লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক জনঘনত্বের মধ্যে এখন রাফাহ শহরে বসতি স্থাপন করেছে, রাফাহতে অভিযান হবে আরও মারাত্মক।
রাফাহ অভিযান নিয়ে দৃঢ় অবস্থান সামনে আসার আগে ইসরায়েল সফরে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। জানা গেছে, তিনি সেখানে যুদ্ধবিরতির ওপরই জোর দেবেন। এর আগে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করে চলে যান জর্ডানে। এরপরই তিনি ইসরায়েলে পা রাখেন।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় দোলাচলের মধ্যে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও হামাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। তবে নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি নেতৃত্ব যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তা তাদের কথাতেই পরিষ্কার। বিষয়টি নিয়ে আরও জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্তকারীরা গাজার প্রধান দুটি হাসপাতালের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গাজার আল নাসের এবং আল শিফা হাসপাতালের কর্মীদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।