স্বজনদের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনাই হয়নি আ.লীগের সভায়

যত গর্জে তত বর্ষে না। যেন এ প্রবাদের মতোই হয়েছে গতকাল মঙ্গলবারের আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা। উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলটির সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের স্বজনরা প্রার্থী হতে পারবেন না জানিয়ে দলীয় যে নির্দেশনা ছিল, সে ব্যাপারে কোনো আলোচনাই হয়নি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ বৈঠকে। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগই দেননি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

যদিও এ সভার আগে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছিলেন। কিন্তু গতকালের বৈঠকে সেসবের কিছুই হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া এ সভায় রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত সাংগঠনিক রাজনীতি নিয়েই নানা দিকনির্দেশনা ও আলোচনা হয়েছে। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে দলের গোল্ডেন জুবলি উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়ে। আলোচনা হয়েছে ১৭ মে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি কী হবে তা নিয়ে। এ ছাড়া শোকের মাস আগস্টে প্রতিটি দিন কী কী কর্মসূচি আওয়ামী লীগ গ্রহণ করবে তা নিয়েও আলোচনা হয়।

গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বৈঠকের আলোচনার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন দল ও সরকারকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। তবে জনগণ পাশে আছে বলে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারছে আওয়ামী লীগ। ফলে সংগঠন আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। দলাদলি, অনৈক্য এগুলো থাকলে জনগণের সমর্থন পক্ষে থাকবে না। তখনই দুঃসময় আসবে।

ওই নেতারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেছেন জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হবে। আয়েশের রাজনীতি করলে হবে না। এ সময় তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে দেশের আনাচে-কানাচে গিয়ে কীভাবে দলকে সংগঠিত করেছেন, কীভাবে কমিটি করেছেন সেসব স্মৃতি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সভা হলে অনেকের হাতাহাতির মতো প্রস্তুতিও দেখেছি। মিটিংয়ের মধ্যে অমুকের গ্রুপ তমুকের গ্রুপ দেখেছি। আমি কথা বলতে পারিনি। কিন্তু আমি কোনো গ্রুপকে সমর্থন যেমন করিনি তেমনি বিরোধিতাও করিনি। তৃণমূলের সম্মেলনে নিজে চলে গিয়েছি। অনেক এলাকায় গিয়ে মাটির চুলোয় রান্না করেছি, খেয়েছি। যত দূরেই হোক গিয়েছি, উপস্থিত থেকেছি। এখন আওয়ামী লীগ নেতারা দিনে দিনে জেলা-উপজেলায় গিয়ে সম্মেলন করে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন, এটা করা যাবে না। এলাকায় গিয়ে থাকতে হবে। সম্মেলনের দুদিন আগে গিয়ে সম্মেলন করতে হবে। সম্মেলনের পর কমিটি ঘোষণা করে আরও দুদিন থাকতে হবে। তৃণমূলে সংগঠনে যে দ্বন্দ্ব-কোন্দল সৃষ্টি হয়ে আছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকায় গিয়ে তার দেখাশোনা করতে হবে।’

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দলের অভ্যন্তরে যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে নিরসনের জন্য দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা।

সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে : দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে দলের যেসব এমপি-মন্ত্রীর স্বজন প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সময়মতো ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে গণভবনের ফটকে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

গতকালের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘না, হয়নি।’

তাহলে উপজেলা নির্বাচনে নির্দেশ অমান্যকারীদের কোনো শাস্তি কি হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি সেটা বলব না, পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমি আপনাদের বরাবর একই কথা বলেছি যে, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩০ তারিখে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে তা কিন্তু আমি বলিনি। এখনো একই কথা বলব, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’