ফিলিস্তিনপন্থিদের কলাম্বিয়া ভার্সিটির ভবন দখল

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে গেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা স্কুলের ভবন ‘পুলিৎজার হল’ অবিলম্বে খালি করে দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হ্যামিল্টন হল দখল করে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে অনেক শিক্ষার্থীকে বরখাস্ত করা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা কলাম্বিয়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের তাঁবু খুলতে সময়সীমা বেঁধে দেয়। কিন্তু তা উপক্ষো করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান তারা। পরে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী হ্যামিল্টন হল নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন দখল করেন। সাংবাদিকতা স্কুলেও প্রবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হ্যামিল্টন হল দখলের সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউজ। গত সোমবার কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষ একটি বার্তা পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জানায়, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে সাংবাদিকতা স্কুলের পুলিৎজার ভবন অবিলম্বে খালি করে দিতে হবে।

আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে না সরায় তাদের বহিষ্কার করা শুরু করেছে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ তাঁবু সরিয়ে নিতে ও বিক্ষোভ বন্ধ করতে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীদের। নির্দেশ না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এ জন্য নির্দেশ অমান্যকারী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট নেমাত মিনোশি শফিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ছাত্র সংগঠন এবং অ্যাকাডেমিক নেতাদের মধ্যে কয়েক দিনের আলোচনা শেষেও ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের স্থাপিত কয়েক ডজন তাঁবু অপসারণে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র বেন চ্যাং বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টার পরবর্তী পর্যায়ের অংশ হিসেবে আমরা নির্দেশ অমান্যকারী শিক্ষার্থীদের স্থগিত করা শুরু করেছি।’

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নিউ ইয়র্ক ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের আঁচ লেগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন উত্তাল। মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরও এ নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করছে; কারণ তাদের ‘সমালোচিত’ ইসরায়েল-নীতি নিয়ে দেশের শিক্ষার্থীরা ফুঁসছেন। গতকাল কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, ‘কলাম্বিয়ায় যা ঘটছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ক্যাম্পাসটি ইহুদিবিদ্বেষী ছাত্র-শিক্ষক দ্বারা ভরে গেছে। এর অবসান ঘটতে হবে। প্রেসিডেন্ট শফিককে পদত্যাগ করতে হবে।’