কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত অংশের সামনে পাহাড় কেটে তিনতলা ভবন তৈরির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ওমর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। রেস্টুরেন্টের জন্য ওই ভবন তৈরি করতে প্রায় ১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট উচ্চতার একটি পাহাড় কাটা হলেও নেওয়া হয়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে নিয়মিত সেই নির্মাণকাজ তদারকিও করছেন তিনি। অবশ্য পাহাড় কাটার ওই অংশটি নিজের জমি নয় বলে দাবি করেছেন প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী। আবর ব্যক্তিগত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতের আঁধারে চুপিচুপি কাটা হয় পাহাড়। শব্দ হবে তাই ব্যবহার করা হয় না কোনো এক্সকাভেটর। রমজানের মধ্যে সরেজমিনে দেখা যায়, রাতের আঁধারে শ্রমিকরা পাহাড় কাটছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের পাহাড় কাটতে বলা হয়েছে, আমরা পাহাড় কাটতেছি। এই জায়গা ভার্সিটির প্রক্টর স্যারের। আমরা তো শ্রমিক, এত বিষয়ে আমরা জানি না।’
নির্মাণ এলাকার নাইটগার্ড হিসেবে দায়িত্বরত কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রমজানে রাতের বেলা পাহাড় কাটা হয়েছে। কাজ দেখতে প্রক্টর স্যার গাড়ি দিয়ে রাতের বেলা আসেন। কাজের খোঁজ নিয়ে আবার চলে যান।’
নির্মাণকাজের সার্বিক দেখভাল করছেন শামিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন ঠিকাদার কাজ করেছেন। আমি এখন শুধু দেখাশোনা করি। স্যার আমাকে ফোন দিয়ে এটা-ওটা করতে বলেন, আমি সে অনুযায়ী কাজ করি। এখানে পাহাড় কাটা হয়েছে জায়গাটা সমান করার জন্য। এখানে আটটি পিলার বসানো হবে।’
অবশ্য আইনে পাহাড় বা টিলা কাটার জন্য ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রক্টর কোনো অনুমতি নেয়নি বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের (সংশোধন) ২০১০-এর ৬-এর ‘খ’ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।’
পাহাড় কাটার অনুমতির বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, ‘পাহাড় কাটার ব্যাপারে আমাদের জানানো হয়নি। আমরা সেখানে লোক পাঠাব এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
এদিকে নির্মাণকাজের তদারকির জন্য ওমর সিদ্দিকী বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুমিল্লা-চ ৫১০০৮৪) নম্বরের গাড়ি ব্যবহার করছেন। নিয়মানুযায়ী ওই গাড়ি প্রক্টরিয়াল বডির অফিস-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করার কথা। এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলেননি। পরিবহন পুলের সেকশন অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই গাড়ি প্রক্টর স্যারের আন্ডারে থাকে। এটা প্রক্টরিয়াল বডি অফিস-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করবে। কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে কি না জানা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে যান, তখন তার মাঝে আর শিক্ষকতার মূল্যবোধ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত অংশে তিনি ভূমি অধিগ্রহণের আগে বিভিন্ন নামে জমি কিনেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘ওইটা আমার জায়গা না। আর আমি সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে যাইনি।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এফ আবদুল মঈনকে ফোন করে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বাস্কেটবল গ্রাউন্ড তৈরির জন্য পাহাড় কাটে কুবি কর্র্তৃপক্ষ। পরে দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর চাপের মুখে কাজ স্থগিত করে।