শোনা গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া। বছর দুই তিনেক আগে ভারতীয় গণমাধ্যম এমন খবর প্রকাশ করেছিল, সেখানেই নাকি স্থায়ী হচ্ছেন দেশের আলোচিত এই অভিনেত্রী। সে খবরের আর কোনো বাস্তবতা দেখা যায়নি কিংবা শোনা যায়নি। এই খবরের ক’ বছর পর সেই দেশেই উড়াল দিয়েছেন। দেশটির মেলবোর্নে বিমান থেকে নেমেছেন। সেখানেই একটি আয়োজনে নাচের পারফর্ম করেছেন। এরপর বৃহস্পতিবার আরেক বিমানে উড়াল দিয়ে দেশটির সিডনিতে আসেন। তবে অস্ট্রেলিয়া সত্যিই স্থায়ী হচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নায়িকা? না সেটা সত্য নয়, কিংবা এমন কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অন্তত এখন নেই।
সিডনি থেকে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বললেন, ‘আসলে আমি এখানে এসেছি। মেলবোর্নে একটি শো করলাম। এরপর ৫ তারিখে আরেকটি শো রয়েছে। এরপরই অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়াল দিয়ে ঢাকা যাব। পরের দিনই ঢাকা থেকে কলকাতায় যাব। কলকাতায় একটি বিজ্ঞাপনের কাজ রয়েছে। সেই বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিতে হবে।’
কীসের বিজ্ঞাপন সেটা অবশ্য জানালেন না অভিনেত্রী। দেশের নাকি ভারতীয় পণ্য সেটাও এখন বলার বাধা রয়েছে বলেই ইঙ্গিত দিলেন। তবে জানালেন সময়ের সঙ্গেই সব জানাবেন।
নুসরাত ফারিয়ার বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট শো-এর বাইরে অভিনেত্রী এক মুহূর্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকছেন না। আয়োজন শেষ হলেই সিডনি থেকে উড়াল দেবেন নায়িকা। অস্ট্রেলিয়ার অনুষ্ঠানে প্রচুর বাঙালি উপস্থিত হচ্ছেন, এবং বেশ উপভোগ করছেন বলেও জানালেন। বললেন, ‘এখানে আমি আর জায়েদ খান এসেছি। যদিও আমাদের দুজনের একসঙ্গে পারফর্ম করা হচ্ছে না। হয়তো জায়েদ খান মঞ্চে উঠলে আমি মঞ্চের সামনে থাকছি, আমি মঞ্চে উঠলে জায়েদ খান মঞ্চের সামনে থাকছেন। মেলবোর্নের অনুষ্ঠানে দেখেছি দর্শকরা বেশ উপভোগ করছেন। বিশেষ করে জায়েদ খানকে নিয়ে তো সেøাগান দেওয়া শুরু করছেন। মঞ্চে জায়েদ খান উঠলেই আনন্দ নিয়ে চিৎকার করছেন। তার এত ভক্ত এখানে এটা জানা ছিল না।’
এদিকে আগামী ৫ মে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টার ক্যাম্পসিতে ‘ফাগুন হাওয়া ইনক’ আয়োজিত বর্ণিল বৈশাখী আড্ডা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও মঞ্চ মাতাবেন নুসরাত ফারিয়া। বললেন, এখানে আমরা এসে যে আতিথেয়তা পাচ্ছি তা খুবই মুগ্ধকর। এখানের বাঙালিরা আমাদের বেশ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। ৫ মে সিডনির প্রোগ্রামের জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) এসেছি। বিমানবন্দরে আমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আসন্ন আয়োজনটি বেশ চমকপ্রদ হবে, মনে রাখার মতো হবে।
রমজানটা অনেক বিষাদের সঙ্গেই কেটেছে মুজিব বায়োপিকের এই অভিনেত্রীর। কেননা তার বাবা মাজহারুল ইসলাম মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের কারও ভালো থাকার কথা নয়। নুসরাত ফারিয়া বললেন, আমি যেদিন অস্ট্রেলিয়া আসি, সেদিন বাবাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন অনেকটাই ভালো আছেন। দেশে ফিরলে দেখা হবে বাবার সঙ্গে।’